স্টাফ রিপোর্টার , বাঁকুড়া : মঙ্গলবার দুপুর থেকে নাগাড়ে জ্বলছে শুশুনিয়া। গোটা পাহাড়ে আগুন ছড়িয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। । আজ দুপুরের দিকে পাহাড়ের শুকনো পাতায় আগুন লাগে বলে আনুমান করা হচ্ছে।

বিকেল দিকে পাহাড় থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় মানুষজন ঘটনা টের পান। খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকল বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ফিরে আসে। পরে পাহাড় জুড়ে আগুনের শিখা পায় , গ্রামের মানুষ। কি হচ্ছে তা দেখতে জমে যায় ভিড়। সেই শুরু, সন্ধ্যে থেকে নাগাড়ে জ্বলছে আগুন। রাতে তা ভয়াবহ আকার নেয়। পুরো পাহাড় দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যেন আগ্নেয়গিরি।

এলাকায় আগুন ছড়ানোর আতঙ্কও তৈরী হয়েছে। কারণ বাতাসে উড়ছে আগুনের ফুলকি। যা ছড়িয়ে পাহাড় সংলগ্ন গ্রামগুলির খড়ের ছাউনিতে আগুন ধরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। মধ্যরাতে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। আর্ত চিৎকার শোনা যাচ্ছে শেয়াল,বুনো শূয়োর,বুনো খরগোশের বলেও জানাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। সারা রাতের এ-ই আগুনে গাছের পাশাপাশি অনেক পশু মারা পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সময়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার যে তাপমাত্রা । তা থেকেই মনে করা হচ্ছে শুকনো হাওয়ায় পাতায় পাতায় ঘসে আগুন লেগে গিয়েছে। কারব পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি, বাঁকুড়ার পারদ কাল ৪০.৪ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। এ থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত , এইই বছরের শুরুতে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন মানুষ। এছাড়াও দাবানলে বন্যপ্রাণিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিঃশব্দে মারা গিয়েছে প্রায় ৫০ কোটি প্রানী। দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় হাজার হাজার কোয়ালা। প্রায় বিলুপ্তির তালিকায় থাকা এই প্রজাতির বেশিরভাগেরই বাস ছিল অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে। মূলত, নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্য-দক্ষিণ উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় আট হাজার কোয়ালার মৃত্যু হয়েছে। যা এই অঞ্চলের কোয়ালা-সংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। পরিস্থিতির জেরে পরবর্তীতে মৃত প্রাণিদের দেহও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। তার আগে বিশ্ববাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল আমাজনের আগুন।