সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: লকডাউন পরিস্থিতিতে মাঝে মধ্যেই সাইরেনের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন মালদহের মানুষ। নিস্তব্ধতা ভেঙে এগিয়ে আসছেন ওরা। ফাঁকা রাস্তায় এমন সাইরেন চমকে দিচ্ছে অনেককেই। সাইরেনের শব্দ ফাঁকা করে দিচ্ছে গলি, রাস্তার আনাচেকানাচে আইন অমান্যকারীদের জটলা। ফলে পুলিশের লাঠি নয় মালদহে সোশ্যাল ডিস্টেনসিং মানাতে কাজ দিচ্ছে সাইরেনই। ওরা দমকল বিভাগের কর্মী।

করোনা বিরোধী যুদ্ধে লকডাউনই হাতিয়ার সরকারের। লকডাউনে মানুষকে গৃহবন্দী রাখতে সচেতনার প্রচারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ। আর মালদহে শুক্রবার দিনরাত এই কাজ করে চলেছেন দমকল বিভাগের কর্মীরা। মোটরবাইকে চেপে শহর ও শহরতলীতে ঘুরে বেড়িয়ে মানুষকে সচেতন করার শপথ নিয়েছেন ওঁরা। মালদহে করোনা বিরোধী লড়াইয়ে দমকল বিভাগের কর্মীরা অন্যতম হিরো।

মোটরবাইকে সওয়ার মালদা দমকল বিভাগের কর্মীরা সারাবছর কোথাও অগ্নিকাণ্ড হলে সক্রিয় হতে দেখা যায় তাঁদের। যুদ্ধকালিন পরিস্থিতিতে সমস্যা মোকাবিলা করা তাঁদের স্বভাবজাত দক্ষতা। তাই গোটা দেশ যখন করোনা যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছে তখন ওরাও নামলেন পথে। দফতরের মোটরবাইকে হ্যাণ্ড মাইক ঝুলিয়ে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপন আর জরুরী প্রয়োজনের জিনিসপত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন মালদহের দমকল বিভাগের কর্মীরা।

তাঁরা সকাল থেকে বেড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন বাজার,গুরুত্বপূর্ন রাস্তার মোড় আর পাড়া মহল্লায়। বিভিন্ন এলাকায় দাড়িয়ে প্রচার করছেন করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি। একই সঙ্গে গুজব না ছড়ানো বা গুজবে কান না দেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। অনবরত প্রচার করা হচ্ছে সরকারের করোনা সংক্রান্ত হেলপ্লাইন লাইন নম্বর।

দিনের বেলা বাজার বা লোকালয় গুলিতে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে। আর রাত হলে শহরের গলি থেকে রাজপথ সমানে চলছে এভাবেই সচেতনতার প্রচার। দমকল বিভাগের কর্মীদের এভাবে রাস্তায় নেমে সামাজিক কর্তব্য পালনে এগিয়ে আসতে দেখে খুশী মালদা শহরবাসী। তাঁদের এই পরিষেবার তারিফ করছেন সকলেই।