স্টাফ রিপোর্টার, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিভারা এলাকায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হল ওই এলাকায়। বুধবার সকালে জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি কর্মীরা দেখতে পান, বালিভাড়ার ঝিলপাড় এলাকায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে কেউ বা কারা আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কংক্রিটের ওই বিজেপি কার্যালয়ের ভিতরের সমস্ত আসবাবপত্র এই অগ্নি সংযোগের ঘটনার জেরে আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বিজেপি কার্যালয়ের সামনে পড়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ছেঁড়া ব্যানার ও পোস্টার। এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর গ্রাম সংসদ সদস্য ছবি দাস ও তার স্বামী রতন দাসের দলবল বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে রাতের অন্ধকারে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই এলাকার বিজেপি কর্মীরা বলেন, মঙ্গলবার জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা রতন দাসের সঙ্গে বিজেপি কর্মী নিমাই দাসের বচসা ও হাতাহাতি হয়।

সেই সময় রতন, নিমাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। মঙ্গলবার দিনের বেলায় সেই ঘটনা মিটে যায়। তারপর বুধবার সকালে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা দেখে তাদের দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেই কারনে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রাম সংসদ ছবি দাস ও তার স্বামী রতন দাস বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

এলাকার বিজেপি নেতা গনেশ দাস বলেন, “এখনকার ৯০% তৃণমূল কর্মী এখন বিজেপিতে যোগদান করে বিজেপি দল করছে। ওরা শত্রুতা করে বিজেপির দলীয় কার্যালয় দখল নেওয়ার জন্য আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বীজপুর থানার পুলিশকে আমরা সব জানিয়েছি।”

এদিকে জেঠিয়া পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রতন দাসের বক্তব্য, “এই ঘটনায় তৃণমূলের কোন যোগ নেই। বিজেপির নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দল ধামা চাপা দিতে তৃণমূলকে দোষারোপ করছে। তৃণমূলের কেউ এই ঘটনায় যুক্ত নয়।” এই ঘটনায় হালিশহর এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপান উতর শুরু হয়েছে। বীজপুর থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি।