সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) : লোকসভা ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে পর পর মামলা রুজুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য দুই বর্ধমানে৷ অভিযোগ তিনি সিপিএমের তৈরি করা স্লোগান ‘চুরি’ করে গান তৈরি করেছেন৷ যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি আলোড়িত৷ আবার এও অভিযোগ, মন্ত্রী খোদ পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ধমক দিয়ে আইন ভেঙেছেন৷

গত সোমবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্যুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছিলেন, ”যাঁকে মানুষ ‘পিসির ভাইপো’ বলে জানেন, তিনি যাবেন বলে দুঘণ্টা আগে থেকে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার জাতীয় সড়কের দু ধারে (শক্তিগড়ে) দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করছে। পড়বি তো পর আমার সামনে। দড়ি খুলে দিয়েছি বন্ধুগণ সময় এলে …”। মন্ত্রীর এই ট্যুইট করার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শক্তিগড় থানায় বাবুলের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানায়।

অভিযোগকারী সিভিক ভলান্টিয়ার শ্যামল মণ্ডল ও মেমারি থানার কলানবগ্রামের বাসিন্দা তন্ময় ঘোষ দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে অপরাধে উৎসাহিত করা, সরকারি আদেশ অমান্য করা, মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক কাজ করা এবং কুৎসা করার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। দু’টি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁকুড়ায় নির্বাচনী সভা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেকবাবু জেট প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তাঁর নিরাপত্তার জন্য জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই নিয়ম মেনে শক্তিগড়ে জাতীয় সড়কে দড়ি ধরে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। সেই সময় কলকাতা থেকে সড়ক পথে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র আসানসোলে যাচ্ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। দড়ি দিয়ে যান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখতে পেয়ে গাড়ি থামান তিনি। পুলিশের কাছে যান নিয়ন্ত্রণের কারণ জানতে চান। জাতীয় সড়ক ধরে ভিআইপির যাওয়ার কথা রয়েছে বলে তাঁকে জানায় পুলিশ। অভিযোগ, এটা শোনার পরই বাবুল সুপ্রিয় ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ দেন। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসাও হয়। এই ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্যুইট করেন বাবুল।

কলানবগ্রামের বাসিন্দা অভিযোগকারী তন্ময় ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি শক্তিগড় এলাকায় একটি দোকানের সামনে আরও কয়েকজনের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় আসানসোলের সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয় গাড়ি করে কিছু ছেলেকে নিয়ে সেখানে দাঁড়ান। দলীয় কর্মীদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট মারার নির্দেশ দেন। অভিষেক ও তৃণমূল কংগ্রেসের নামে গালিগালাজ করেন তিনি। কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে চমকান। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছ থেকে দড়ি খুলে দেন। এমনকি নিরাপত্তাজনিত নির্দেশ না মানার জন্য প্ররোচিত করেন তিনি। একই ধরণের অভিযোগ করেছেন সিভিক ভলান্টিয়ার শ্যামল মণ্ডলও।

এই ঘটনাকে ঘিরেই এবার লোকসভা ভোটের মুখে পারদ চড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি লোকসভার থিম সং নিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে নোটিশ ধরিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তারই মাঝে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির বর্ধমান জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন,মামলার ধরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশ ভয় পাচ্ছে বিজেপিকে। তাই মিথ্যা কুত্সার আশ্রয় নিয়েছে তারা।