কলকাতা: বিজেপি এফআইআর-এ ভয় পায় না৷ আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করুন৷ কিন্তু বাংলায় বিজেপির জয়যাত্রা থামাবেন কী করে মমতা দিদি? – প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ অমিত শাহ দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বসে সাংবাদিক সম্মেনল করছিলেন৷

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬০ জন খুন হয়েছে৷ বেশিরভাগ বিজেপির সমর্থকই খুন হয়েছেন৷ সারা দেশের সাধারণ নির্বাচন হয়েছে৷ কোথাও বিন্দুমাত্র হিংসার ঘটনা নেই শুধু মাত্র বাংলায় হিংসার ঘটনা কেন ঘটছে? বিজেপি সারা দেশেই লড়াই করছে৷ কিন্তু তফাতটা হল বিজেপি, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করেছে৷ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নষ্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷

অমিত শাহ এদিন বলেছেন, রোড-শো তে আমার উপর হামলা হয়েছে৷ সিআরপিএফ না থাকলে বিপদ হতে পারত৷ প্রঙ্গত, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শা-র নির্বাচনী রোড-শো কে ঘিরে প্রবল অশান্তি ছড়ায় কলেজস্ট্রিট সংলগ্ন বিদ্যাসাগর কলেছে৷ ওই মিছিল বিদ্যাসাগর কলেজের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি এবং বিদ্যাসাগর কলেজে থাকা টিএমসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়৷ কলেজের ভিতরে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তিটিও ভেঙে ফেলে একদল দুস্কৃতি৷ টিএমসিপি এবং তৃণমূলের অভিযোগ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে রোড শো থাকা বিজেপি সমর্থকরা৷

বিজেপির পালটা অভিযোগ কলেজের ভিতরে ওই মূর্তি ভেঙেছে তৃণমূলের কর্মীরাই৷ এরপরই বিদ্যাসাগর কলেজে এসে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ ওরা কাকে মানে? বিদ্যাসাগর কেন, কাউকেই মানে না৷ অমিত শাহ, মোদীকে মেনে চলে আর মোদী , অমিতকে৷’’

দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদরা ডেরেক ও ব্রায়নের নেতৃত্বে পালটা সাংবাদিক সম্মেলন দাবি করেন বিজেপি কর্মীরাই পাচিল চপকে ওই মূর্তি ভেঙেছে৷ কলেজে তাণ্ডব চালিয়েছে৷ যে ফুটেজ তিনি দিখেছেন তাতে দেখা যায় কিছু জনতা বিজেপির ফ্ল্যাদ হাতে কলেজে ঢুকছে৷ এক যুবক কলেজ থেকে মূর্তি বার করে এনে মাটিতে ফেলছে৷ কিন্তু যেঘরে মূর্তিটি কাঁচের বাক্সে রাখা ছিল, সেই ঘরের সিসিচিভি ফুটেজের কোনো হদিশ এখনও নেই৷ তৃণমূল কংগ্রেসের যে ফুটেজ দেখিয়েছে তাতে কলেজের ভিতরের কোনও দৃশ্য নেই৷ ভাঙা মূর্তি নিয়ে এক যুবক বেরিয়ে আসছে ঠিকই, কিন্তু কে মূর্তি ভেঙেছে – তার কোনও হদিশ নেই৷