নয়াদিল্লি: প্রথা ভেঙে ব্রিফকেশের বদলে শালু দিয়ে মোড়া ব্যাগে বাজেট নথিতে ‘পশ্চিমী দাসত্ব’ ভাঙার বার্তা৷ আর বাজেট ভাষণে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া৷ দুই বিপরীতধর্মী চরিত্র নিয়েই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বাজেট ভাষণ দিলেন৷ দ্বিতীয় মোদী সরকারের বাজেটে বিমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ এফডিআই ও কৃষিতে বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে৷ পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমে বিদেশি লগ্নি বাডা়নোর কথা বলা হয়েছে ৷

সকালেই চমক৷ মোদী মন্ত্রিসভার চমকের ঢেউ তুলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের হাতে দেখে গেল না সেই ব্রিফকেশ৷ স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন সব অর্থমন্ত্রীরাই ব্রিফকেশ করে বাজেট নথি আনতেন৷ এবার অন্য ছবি৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে ছিল অশোকস্তম্ভের চিহ্ন দেওয়া লাল শালু মোড়া বাজেট ভাষণের নথি৷ সেটা দেখেই অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা চমকিত৷ মুহূর্তে বিতর্ক জন্ম নিল৷ কেন এমন অবস্থান সীতারামনের ? পরে এই প্রসঙ্গে মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মমণ্যম জানান, ওই ব্যাগে মোড়া বাজেটের ‘বই খাতা’ বার্তা দিচ্ছে পশ্চিমী দাসত্বের অবসান ঘটানোর৷

এরপর সংসদে বাজেট পেশ করেন দেশের প্রথম পূর্ণ সময়ের মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷ এর আগে মহিলা হিসেবে ইন্দিরা গান্ধী বাজেট পেশ করলে সেটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রকের বাড়তি দায়িত্ব ৷ নির্মলার প্রথম বাজেটে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়৷ এতে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে দেশীয় বিমা৷ এই ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে বাজেটে৷

এনডিএ সরকারের এমন পদক্ষেপে অর্থনৈতিক মহলে পড়েছে চাঞ্চল্য৷ কারণ জীবনবিমা জাতীয়করণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘটেছিল নেহরু জমানায়৷ আর ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্যাংক-সাধারণ বিমা- খনি জাতীয়করণ করে কংগ্রেস সরকার৷ যদিও নরসীমা রাওয়ের কংগ্রেস সরকার উল্টে পথে হেটে মুক্ত অর্থনীতির দরজা খুলে দেয়৷ তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং৷

বেসরকারি পুঁজির বিরুদ্ধে গিয়ে নেহরু- ইন্দিরা বিমা ক্ষেত্রকে সরকারি আওতায় এনেছিলেন৷ ব্রিফকেশের বদলে শালু দিয়ে মোড়া বাজেট নথি এনে স্বদেশী ভাবধারার কথা প্রচার করছে মোদী সরকার৷ আবার তারাই বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে৷

বাজেটে দেশের কৃষিক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও খুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ অর্থনীতিবিদরা অনেকেই মনে করছেন, এরপর বড়সড় কোপ পড়বে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার উপরে৷ এখানে আরও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়ার পথেই হাঁটতে চলেছে সরকার৷ ক্রমে আসবে রেলের মতো ক্ষেত্র৷