নয়াদিল্লি: মোদী ম্যাজিক অব্যাহত৷ জনাদেশে ফের দেশের মসনদে বসতে চলেছেল নরেন্দ্র মোদী৷ আগামী ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন বিজেপির ‘পোস্টার বয়’৷ কিন্তু দ্বিতীয় দফায় তাঁর মন্ত্রিসভায় থাকবেন কারা? গুরুত্বপূর্ণ অর্থ, স্বরাষ্ট, প্রতিরক্ষা, বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব কারা পাবেন তা নিয়ে রাজধানীতে নানা জল্পনা৷ চর্চা বিজেপির অন্দরেও৷

কথায় বলে অর্থই অনর্থের মূল কারণ৷ তবে, নোটবন্দী বা জিএসটি নিয়ে বিরোধী থাকলেও তা প্রভাব ফেলেনি ইভিএমে৷ কিন্তু যাঁর হাত ধরে এই আর্থিক সংস্কার, সেই অরুণ জেটলি কি ফিরবেন মন্ত্রিসভায়? গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে নানা কথা৷ সূত্রের খবর, মোদীর পছন্দের অরুণ জেটলি শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর মন্ত্রীত্বের দায়িত্বে ফিরবেন না৷

আরও পড়ুন: নয়া রেকর্ড রাজ্যের, সর্বাধিক মহিলা সাংসদ পাঠাচ্ছে বাংলা

তাহলে কে সামলাবেন অর্থমন্ত্রকের মতো গুরু দায়িত্বের কাজ? উঠে আসছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নাম৷ এবার লোকসভা ভোটে প্রথমবার লড়েইঈ বাজিমাত করেছেন তিনি৷ জিতেছেন গুজরাতের গান্ধীনগর থেকে৷ তবে, পুরো বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে দলের তরফে৷

যদি, অমিত শাহ অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব না নেন, তবে তা যেতে পারে প্রথম মোদী মন্ত্রিসভায় জেটলির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলানো পিযূস গোয়েলের কাছেও৷ জেটলির অসুস্থতার সময় অতীতে দু’বার অর্থমন্ত্রকের গুরু দায়িত্ব সামলেছেন তিনি৷ যদিও তিনি ছিলেন রেল ও কয়লা মন্ত্রকের মন্ত্রী৷ এমনকি এবছরের মার্চে জেটলির বদলে সংসদে গোয়েলই অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেন৷ পদ্ম শিবির সূত্রে খবর, যাই হোক না কেন পিযূস গোয়েল এবার পাবেন গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রকের দায়িত্বই৷

কিডনি প্রতিস্থাপণের পর থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ অরুণ জেটলি৷ বিগত বেশ কয়েক মাস তিনি অর্থমন্ত্রকে যাননি৷ ২৩ মের পর মোদী-শাহ দলের সদর দফতরে পৌঁছালেও অনুপস্থিত ছিলেন জেটলি৷ তবে, নিজের ব্লগে বিজেপি ও মোদীকে শুভেচ্ছা জানিছেন তিনি৷ কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, উন্নয়নশীল ভারত পরিবারতন্দ্র, আনুগত্য ও জাতপাতের রাজনীতি মেনে নেয়নি৷

আরও পড়ুন: মোদীর প্রত্যাবর্তনে ভীত দাউদ, বৈঠক আইএসআইয়ের

তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য মন্ত্রিসভা ও আমলাদের কাছে জনপ্রিয় জেটলি৷ মোদী মন্ত্রীসভার ‘মুশকিল আসান’ বলে পরিচিত তিনি৷ বালাকোটে সম্প্রতি পুলওয়ামা বা বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইকের পর বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহন করতে দেখা যায় তাঁকে৷

আবার গত পাঁচ বছরে ভারতের অর্থিক উন্নতি নিম্নমুখী হয়েছে৷ কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে রেকর্ডহারে৷ পরিসংখ্যান বলছে গত ৪৫ বছরে ভারতের কর্মসংস্থানের হার মোদীর আমলে সবচেয়ে করুন৷ তাই জেটলি হোক বা অন্যকেউ, অর্থমন্ত্রকের দায়ত্বে যেই বসবেন, তাঁকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে দেশের মজবুত অর্থনীতির জন্য৷