শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই উপত্যকা থমথমে। লকডাউন বিরোধিতার মাঝেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলেছে ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন। ৩১০ টি ভোট কেন্দ্রে ১০৬৫ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই ভোটাভুটিতে। কংগ্রেস, বাম, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি এই নির্বাচন বয়কট করেছে।

২৬,৬২৯ নির্বাচকের মধ্যে ৮৩১৩ জন মহিলা এবং ১৮,৩১৬ জন পুরুষ। তাঁরাই ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। রাজ্যের ৩১৬ টি ব্লকের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ৩১০টি ব্লকে। এই নির্বাচনে সব থেকে বেশি প্রার্থী রয়েছে উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় ১০১ জন। আর সব থেকে কম প্রার্থী রয়েছে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ানে মাত্র ৪ জন। রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীন মনোভাবের অভিযোগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস। যে কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রাম পরিষদের আসন সম্পূর্ণ ফাঁকা থেকে যাবে।

এই নির্বাচনে বারামুল্লায় প্রার্থী রয়েছেন ৯০ জন, জম্মুতে ৮২ জন, রাজৌরিতে ৭৬ জন, ডোডায় ৭৪ জন, কাঠুয়ায় ৭২ জন, উধমপুর এবং বুদগাঁওয়ে ৫৮ জন করে, কিস্তাওয়ারে ৪৪ জন, রামবানে ৪৩ জন, রেয়াসিতে ৩৯ জন। শ্রীনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫জন এবং কারগিল ও লে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে ৩৮ ও ৩৬ জন। নির্বাচন শেষে বিকেল ৩ টে থেকেই গণনা শুরু হয়ে যাবে।

এদিনের ভোটাভুটির শেষে কাশ্মীরের বেশিরভাগ জায়গায় ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পরেছে। শ্রীনগরে সবচেয়ে বেশি, জানা গিয়েছে ১০০ শতাংশ ভোট পরেছে সেখানে। সামগ্রিকভাবে এই রাজ্যে বৃহস্পতিবার ৯৯ শতাংশ ভোট পরেছে।

শেহলা রশিদ নামে স্থানীয় তরুণ রাজনীতিবিদ চলতি মাসেই নির্বাচনের কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করিয়ে এবারের ভোটকে ‘বৈধ’ বানাতে চাচ্ছে। যা আমরা কখনোই হতে দেব না।’ দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ৫ অগস্ট মাসে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে নেওয়া হয়। মূলত সেই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত সেনা সদস্যকে। এমনকি গৃহবন্দী করা হয় সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদেরও।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তা সামগ্রিকভাবে নয়। মানুষ এই পরিবর্তন ইতিবাচক হিসেবে নিলেও বিভিন্ন জায়গায় মিলেছে বিরোধিতা। তবে নির্বাচনকে বয়কট করায় নির্দল এবং বিজেপি বেশ কয়েকটি সিট পেয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতেছে বেশ কয়েকজন নির্দল প্রার্থী। বৃহস্পতিবার ফলাফলের পর এদিনই চূড়ান্ত ফল আসার কথা।