শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার টাফ ফাইট। সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম এবার চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থীই। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। এবারের এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হলেন স্বাতী খোন্দকার । জয়ের ব্যাপারে তৃণমূল প্রার্থী যথেষ্ট আশাবাদী। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবারের ভোটে চণ্ডীতলার সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী বিশেষ তথা সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমকে একটা বাড়তি সুবিধা করে দেবে বলে এই এলাকার মানুষের মত । তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে ঢেউ রাজ্যে চলছে সেটাকে হাতিয়ার করে মহম্মদ সেলিম চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচিনী প্রচার চালাচ্ছেন। মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন।

জাতীয় রাজনীতিতে মহম্মদ সেলিমের একটা পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি সাংসদ ছিলেন। তাছাড়া তিনি রাজ্য বামফ্রন্ট মন্ত্রীসভার এক সময়ের মন্ত্রী ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে মহম্মদ সেলিমের একটা ভূমিকা রয়েছে। প্রচারে তিনি বলছেন, “রাজ্যে যে পলিটিকাল বাইনারি সৃষ্টি করে তৃণমূল আর বিজিপি অর্থাৎ দিদিভাই আর মোদীভাই সেটিং করে চলছিলেন, সেই পলিটিকাল বাইনারি সংযুক্ত মোর্চা ভেঙে দিয়েছে। মানুষের চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমরা দেখিয়ে দিতে পেরেছি, কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক। তাই মানুষ আমাদের পাশে আছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ইভিএম-এ চণ্ডীতলার মানুষের রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।

২০১৬ সালে চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খোন্দকার জিতেছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ৯১ হাজার ৮৭৪ ভোট। সিপিএম প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৬৯৮ ভোট। এবার স্বাতী খোন্দকারই এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। তবে এবার সংযুক্ত মোর্চা তৈরী হওয়ার জন্য রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মোর্চার প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বাম ভোটের একটা বড় অংশ বিজেপি-র ঘরে ঢুকেছিলো। সেটা বামেরাও মানেন। তবে সেই সময় বাম, কংগ্রেস জোটের সমীকরণ তেমন ছিল না বলে বাম কর্মীরা ভরসা করতে পারেনি বাম, কংগ্রেস জোটকে। তাছাড়া কংগ্রেসের ভোটটাও সেই অর্থে বামেদের দিকে ট্রান্সফার হয়নি। এই সমস্ত কারণে সেই সময় জটিলতা হয়েছিল। কিন্তু সংযুক্ত মোর্চা তৈরী হওয়ার পর বাম , কংগ্রেস জোটে নতুন শক্তি জুগিয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। তাই এবার বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ তৃণমূল, বিজেপি-র বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নির্বাচনে জয়ের ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে সংখ্যালঘু ভোট, কারণ সংযুক্ত মোর্চার নেতা আব্বাস সিদ্দিকী নির্বাচিনী প্রচারে বলছেন, ইন্সেন্টিভ নয় এবার হক বুঝে নিতে হবে। তাই গরিব, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আমরা লড়াইয়ে নেমেছি। এটাই তৃণমূলের কাছে বড় শঙ্কার কারণ।

বিজেপি, তৃণমূল সেটিং করে চলছে। এই কথা মহম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন। তাঁর সেই কথা এখন জনগণ বলছেন। এটাই চণ্ডীতলার সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সি[পিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের দাবি। প্রচুর মানুষের সমাগম হচ্ছে মহম্মদ সেলিমের মিছিল ও জনসভায়। তবে এই ভিড়ের কতটা সংযুক্ত মোর্চা তথা সিপিএম, ইভিএম-এ টেনে আনতে পারবে সেটি দেখার।

তবে চণ্ডীতলা বিধানসভায় এবারের বিজেপি প্রার্থী যশ দাশগুপ্ত। তিনি রাজনীতিতে নতুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে টিকিট পাওয়ার আশ্বাস না পেয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এটাও তৃণমূল আর সিপিএম চণ্ডীতলার প্রচারে আনছে। আর যশ দাশগুপ্ত-র তৃণমূলে প্রার্থী হতে না পেরে বিজেপিতে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টা চণ্ডীতলার মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি। এখানেও চণ্ডীতলার সিপিএম প্রার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী তৃণমূল, বিজেপি সেটিং তত্ত্ব জায়গা পেয়ে যাচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.