স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: শাসক দলকে ভোট না দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন ওরা। এই সন্দেহে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হলেন কয়েকজন। ঘটনাটি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দেঁঝাট গ্রামের।

শাসকদলের হাতে ‘আক্রান্ত’দের অভিযোগ, রবিবার ভোট শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তাসমিনা খাতুন স্বামী রহিম মণ্ডলের নেতৃত্বে দেড়শো জনের মতো দুষ্কৃতী তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। সেই সময় বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে এই কাণ্ড তারা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।

আক্রান্ত মৌটুসী বাগদী বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় তাকে প্রচণ্ড মারধোরের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি বাড়িতে তালা লাগিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলেও মৌটুসী বাগদী দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরোনোর সময় সব ভোটারদের আঙ্গুল শুঁকে দেখছিল। প্রধানের স্বামী রহিম মণ্ডল এতো সাহস পায় কি করে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

‘আক্রান্ত’ ফুলটুসী বাগদী বলেন, নলকূপের ডাণ্ডা খুলে তার মুখে ঢুকিয়ে দিয়েছিল রহিম বাহিনী। মারধোর, বাড়িতে চাবি দেওয়ার পাশাপাশি তার নাবালিকা মেয়েকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ হুমকির দিয়েছিল বলে তার অভিযোগ। তৃণমূলকে ভোট না দিয়ে ঐ পরিবারটি বিজেপিকে ভোট দিয়েছে সন্দেহ করেই এই হামলা বলে ‘আক্রান্ত’ মৌটুসী, ফুলটুসী বাগদীরা দাবী করেন। পরে পুলিশ ঐ গ্রামে এসে দরজার তালা খোলে বলে তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রধান তাসমিনা খাতুন ও তার স্বামী ‘অভিযুক্ত’ রহিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাই তাদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তৃণমূল নেতা ও বিষ্ণুপুরের পৌরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জ্জী এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক যোগের দাবী উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঐ রহিম মণ্ডলের সাথে ঐ পরিবারটি আগে থেকেই ঝামেলা আছে। সেই সূত্রেই এই ঘটনা বলে তার দাবী।