রুমেলা দাস, দেরাদুন:  বিজ্ঞাপন, মেগাস্টারের প্রতিযোগিতা নেই৷ নেই বাহারি আড়ম্বর৷ তিথি মেনে এখানে পূজিত হন দেবী দুর্গা৷ তিথি মেনে করেই সবুজে মাখা শহর দেরাদুন থেকে বিদায় নেন দেবী৷ মাঝের কটা দিন, উত্তরাখণ্ডের রাজধানী মেতে ওঠে প্রাণের উৎসবে৷

রাস্তাঘাট বেশ অদ্ভুত৷ আজন্ম-সমতলবাসীর কাছে বেশ কৌতূহলের৷ উঁচু-নিচু ঢাল৷ অষ্টমীর অঞ্জুলি৷ নবমীর আড্ডা এখানে মিলেমিশে এলাকার৷ মূলত, পুজোর চারটে দিনের জন্য সারা বছরের অপেক্ষার থেকে গোটা দেরাদুন৷ শাড়ির ভাঁজ, পাঞ্জাবিতে বাঙালি অফুরন্ত আনন্দে বাঙালি৷

রাস্তার ধারে সবুজের মাখামাখি আর কাশের মিছিল৷ সেই পথে রাজপুর রোড ধরে এগিয়ে গেলেই রামকৃষ্ণ মঠ৷ মা সেখানে আসেন বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে৷ স্বামীজীদের তৎপরতায় সেলফি আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ অফ৷ যদিও, ঘোর কলকাতাবাসীর মুড অফ হওয়ার কথা৷ ঠিক তাই বিগড়ে গেল বটে৷ তবে একচালচিত্তিরের মাঝে ওই মনোহরণী রূপ সেই গন্ধ৷ যার সঙ্গে পরিচয় পিছনের ত্রিশটা বছরের৷ নারী,পুরুষের বসার স্থান আলাদা৷

হাতে গোনা খুব বেশি হলে শ-খানেক বাংলা, বাঙালি৷ কেউ কর্মসূত্রে, কেউবা স্থায়ী৷ চেনা এক হাসি চিনিয়ে দেয় ভিড় থেকে এতো দূরে এসেও কোথাও সরু যোগাযোগ যেন রয়েই যায় আমাদের মধ্যে৷ আলাপের মাঝেই অঞ্জলি আর ভক্তিগীতি বেলুড়ের এক পরিমণ্ডল তৈরি করেছে৷ রয়েছে সুষ্ঠু ভোগ বিতরণের স্থানও৷ আকণ্ঠ পান করলাম এক অন্যরকম অষ্টমী৷

এছাড়াও বাংলা লাইব্রেরির পুজো কিছুটা বাংলার আমেজ আনে৷ উনিশ শতকের গোড়ার দিকে শুরু হয়ে আজও চলে আসছে পরিবর্তনের হাত ধরে৷ ঢাকের বোল বোঝালো বাংলা বুঝি সর্বত্র৷ ধুনোর ধোঁয়ায় ফুটে উঠলো সেই সকাল,যার অপেক্ষা আমি মানে আমরা করি৷

মনখারাপের বিকেলগুলো ঢেকে অনেকটা পাহাড় মেখে, সবুজ মেখে আমার পাহাড় পুজো অন্যরকম। তোমাররাও আস্তে পারো, না হয় একটা পুজো হবে নিশ্চুপে মন্দ কি। কাশ আর ছেঁড়া মেঘের আদর গ্যারান্টি দিলাম সেরা পুজোর একটা হয়ে থেকে যাবে।