সম্প্রতি, মিডিয়া কীভাবে মহিলা সেলিব্রিটিদের সাথে আচরণ করে তা নিয়ে বিশেষ একটি আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবং বিখ্যাত মহিলা ব্যক্তিত্বদের থেকে চাঞ্চল্যকর,রসালো খবরের উপযুক্ত প্রতিক্রিয়াগুলি সন্ধান করার চেষ্টা করতে গিয়ে কখন যে তা খুব কুরুচিকর আলোচনায় স্থানান্তরিত করে তা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।

1. এই সাক্ষাত্কারে যেখানে সাংবাদিক সানি লিওনের পূর্ববতী পটভূমি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিল যে “অনেক বিবাহিত মহিলা আছেন যারা সানিকে তাঁদের স্বামীদের জন্য ট্রিট হিসাবে দেখেন” এবং তাঁরা মনে করেন সানি লিওন,তাঁদের স্বামীকে নিয়ে যাবেন। অবশ্যই, তিনি সহজেই উত্তর দিয়েছিলেন “আমার নিজের স্বামী আছে” এবং “দুঃখিত, মহিলারা, আমি আপনার স্বামী চাই না।”

ক্রমবর্ধমানভাবে ঘৃণ্যরূপে সাক্ষাত্কারটি অত্যন্ত নিচু মানের দিকে যেতে শুরু করে। কিন্তু তাতেও থেমে যাওয়ার বা দমে যাবার পাত্র ছিল না এই সাংবাদিক। তিনি ক্রমাগত সানি লিওনকে তাঁর অতীত এবং তাঁর অতীতের জন্য তাকে কী কী শুনতে হয় তার বিরুদ্ধে কী বলা হয় এই নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকেন।

2. এই প্রশ্নোত্তরপর্বে একজন প্রতিবেদক প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে,প্রিয়াঙ্কা ফিল্মফেয়ার কার সাথে হোস্ট করতে চান। তারপরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে প্রতিবেদক জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি এবং শাহরুখ যদি একসাথে হোস্ট করেন, তবে আমরা আরও ‘রোম্যান্স এবং মাস্তি [মজা]’ দেখতে পাবো? ”
প্রিয়াঙ্কা হাসিখুশি এই প্রতিবেদককে উত্তর দেন, “এটা তাঁর কাজ” এবং যে কারও সাথেই তিনি তা করতে পারেন। কিন্তু এই প্রতিবেদক এরপরেও শাহরুখ খানের নাম ধরে নানা প্রশ্ন চালিয়ে যেতে থাকে, তখন প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, “আপনি চাইছেন আমি যেন এই নামটি নিই, তাই না? যাতে একটা বিতর্কিত হেড লাইন তৈরী হয়?”

3. এই সাক্ষাত্কারে একজন সাংবাদিক পরিনীতী চোপড়াকে তাঁর চলচ্চিত্র “দাওয়াত-ই-ইসক” ​​এর প্রচারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,যেখানে ইতিমধ্যে পরিনীতী তাঁর ওজনের জন্য এতো সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন,সেখানে ছবির প্রচারের জন্য তাঁর কি কোন খাদ্যযাত্রায় যাওয়া ভালো ছিলো?”

পরিনীতী জবাব দিয়েছিল, “আমি দুঃখিত, কিন্তু এই প্রশ্নটি আমার পক্ষে হাস্যকর,” এবং তাকে সোজা কথায় বলেন,যে জিম করাটা সবার জন্য মুখ্য উদ্দ্যেশ নাও হতে পারে। সাংবাদিক আবারও সেই একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলে পরিনীতী হবে তাকে এড়িয়ে যায়।

সময়ের সাথে আমরা যতই এগিয়ে যাই না কেন কিছু মানুষের মানসিকতা এখনও তারা মেয়েদেরকে বা মহিলাদের কে সম্মান করর থেকে বেশি, সেই মহিলাকে দিয়ে প্রফেশনাল হেডলাইন তৈরির উপাদান হিসেবে দেখে আরে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি সত্যিই ঘৃণ্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.