ফাইল ছবি৷

 

নয়াদিল্লি: নোট বাতিলের জেরে সংসদে শাসক-বিরোধী তরজার মাঝেই বোমা ফাটালেন বিজেপির ‘লৌহপুরুষ’ তথা বর্ষীয়ান সাংসদ লালকৃষ্ণ আদবানি৷ একেবারে বিরোধীদের সুরেই কথা বললেন পূর্ববর্তী এনডিএ জমানার উপ-প্রধানমন্ত্রী৷ শীতকালীন অধিবেশনে লাগাতার চলা বিশৃঙ্খলা নিয়ে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ আদবানি বলেন, বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হোক৷ তাঁদের কথা শুনলে তবেই সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব হবে৷

পাশাপাশি আদবানি দীর্ঘকালের বন্ধু তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ‘বিকাশপুরুষ’ অটলবিহারি বাজপেয়ীর প্রসঙ্গও তোলেন এদিন৷ বলেন, সংসদে লাগাতার চলা এই গোলমালে উপস্থিত থাকলে ‘‘তিনিও হতাশাগ্রস্ত হতেন৷’’ শুধু তাই নয়, বিজেপি-র চাণক্য আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যেখানে লোকসভার এই হাল সেখান থেকে কি আমার ইস্তফা দেওয়াই উচিত নয়?’’

এদিনও অধিবেশন শুরু হতেই দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা ও রাজ্যসভা৷ তুঙ্গে ওঠে শাসক-বিরোধী কথা কাটাকাটি৷ একদিকে নোট বাতিল ইস্যু নিয়ে যখন শাসকের বিরুদ্ধে স্লোগানের ঝড় তুলছেন কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদরা, ঠিক তখনই অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড নিয়ে পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন শাসকদল তথা বিজেপি-র সাংসদবর্গ৷ খবরের কাগজের কাটিং তুলে ধরে তুমুল হইচই করতে থাকেন নরেন্দ্র মোদীর অনুগামীরা৷ অবস্থা দেখে বেলা ১২টা পর্যন্ত লোকসভা মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার৷ ফের সভা শুরু হলে আবারও ওঠে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে৷ বাধ্য হয়ে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত সভা মুলতুবি ঘোষণা করে দেন স্পিকার৷ যা দেখে আর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি লালকৃষ্ণ আদবানিজি৷

আদবানির পক্ষে রাজনাথ সিংকে সামনে রেখে সরকারপক্ষকে কথা শোনানোটা অনেক যুৎসই হয়েছিল৷ কারণ, রাজনাথ সিং তাঁর একসময়ের সহযোগী এবং অনুগামী৷ নরেন্দ্র মোদী তাঁর শিষ্য হলেও নানা কারণে এখন গুরু-শিষ্য সম্পর্ক অনেক শীতল৷ সংসদে মুখোমুখি দুজনকে সচরাচর কথা বলতেও আর দেখা যায় না৷ তাই রাজনাথ সিংকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগটা ছাড়েননি ভারতের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

গত ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন৷ মাঝে ছুটির দিনগুলি বাদ দিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ২২ বার অধিবেশন বসেছে৷ কিন্তু নোট বাতিলের ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিকেয় উঠেছে বাদবাকি প্রায় সব কাজকর্ম৷ শাসক-বিরোধীর লাগাতার তরজায় এখনও পর্যন্ত মাত্র চারটি বিল পেশ করা সম্ভব হয়েছে৷ এদিকে হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি দিন৷ জিএসটি-র সংশোধনীর মতো প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল এই অধিবেশনেই পেশের কথা ছিল৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র চারটি বিল ছাড়া বাকিগুলি উপস্থাপিত করাই সম্ভব হয়নি৷ শেষ দিনে বাকি বিলগুলি পেশ করা এবং পাশ করানো আদৌ সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকে গেল৷ এদিন লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাও দুপুর ২টোর সময় মুলতুবি হয়ে যায়৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।