ইসলামাবাদ: বালাকোটের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তাই ভারতের ভয়ে এখনও থরহরি পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে একের পর এক টেরর ক্যাম্প বন্ধ করতে বাধ্য হল ইমরান খানের সরকার। গত কয়েক মাসে পাকিস্তান এইসব জঙ্গিঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে ধাকা জঙ্গিঘাঁটির একাধিক প্রমাণ আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরেছে ভারত। গোয়েন্দাদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে একগুচ্ছ ডজিয়ার দিয়েছে মোদী সরকার। আর তার জন্যই পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের দেওয়া রিপোর্ট আনুযায়ী, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ১১টি টেরর ক্যাম্প রয়েছে। মুজফফরাবাদ ও কোটলিতে পাঁচটি করে ক্যাম্প ও বারনলায় রয়েছে আরও একটি ক্যাম্প। সেগুলির উপস্থিতি ও কার্যকলাপের সব প্রমাণ ছিল ভারতের কাছে। এর মধ্যে কয়েকটি চালাত পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা। কোটলিতে সেসব ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েচে পাকিস্তান সরকার। এই জায়গাগুলি ভারতের সীমান্তবর্তী রাজৌরি ও সুন্দরবণীর ঠিক উল্টোদিকে। আর জয়েশ-ই-মহম্মদের ক্যাম্প বন্ধ হয়েছে পালা ও বাঘ এলাকায়। কোটলিতে হিজবুল মুজাহিদীনের একটি ক্যাম্প ছিল বলে জানা গিয়েছে।

শুধু অধিকৃত কাশ্মীর নয়, মুজফফরপুর ও মীরপুরের কাছেও ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকে ভারতের চাপে রয়েছে পাকিস্তান।

বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও, সেনাবাহিনী বড়সড় সাফল্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন নর্দান কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল রণবীর সিং।

সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট বলছে ২৬ ফেব্রুয়ারির এয়ারস্ট্রাইকে ১৭০ জন জইশ জঙ্গি প্রাণ হারায়৷ ভারত সরকার বা ভারতীয় বায়ুসেনা এই দাবি করেনি৷ ইতালিও এক সাংবাদিক ফ্রানচেসকো মারিনো তাঁর প্রতিবেদনে এই দাবি করেন৷

ফ্রানচেসকো মারিনো একমাত্র বিদেশি সাংবাদিক যিনি বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পেরেছিলেন৷ এর আগে একটি প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতের এয়ারস্ট্রাইক বালাকোটে ১২ জন এমন ব্যক্তিকে নিকেশ করেছে যারা পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷

তাই স্বাভাবিকভাবেই বালাকোটের স্ট্রাইকের পর কিছুটা নড়েচড়ে বসতে হয়েছে পাকিস্তানকে।

যদিও পাকিস্তানের এই ঘোষণা বিশ্বাস করছে না ভারত। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন, কোনও প্রমাণ ছাড়া এই ঘোষণা বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। এর আগেও পাকিস্তান সেদেশের মাটিতে সন্ত্রাস বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছে একাধিকবার। কিন্তু আদতে দেখা গিয়েছে পরিস্থিতি যে কে সেই!