স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২১শের শহিদ সমাবেশ৷ অধুনা রাজ্যের শাসক দলের কাছে যা শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ৷ লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর এই সমাবেশ তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জোড়াফুল শিবিরের কাছে৷ যা চ্যালেঞ্জ আকারেই নিচ্ছেন শাসক দলের নেতারা৷ কিন্তু, সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা৷ ভিড় হবে তো! প্রশ্ন তৃণমূল নেতৃত্বের অধিকাংশের৷

শুক্রবার বিকেল থেকেই শহরমুখী তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা৷ শনিবার সেই সংখ্যাটা বেড়েছে৷ রবিবার ভোর হতে না হতেই জনতার গন্তব্য ধর্মলতা৷ কিন্তু, শুক্রবার বিকেল থকে শনিবার রাত পর্যন্ত জমায়েতের ভিড় দেখে বেশ কিছুটা সন্দিহান ঘাসফুল শিবিরের সব স্তরের নেতারা৷ কিছুটা ভুরু কঁচকেছে তাদের৷

প্রস্তুত মঞ্চ৷ নিরাপত্তা আঁটাসাঁটো৷ ধর্মতলায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তৃণমূলের কেষ্ট বিষ্টুদের ভিড়৷ মাঝে মাঝেই উঠছে স্লোগান৷ মঞ্চের ফ্লেক্সে মনে করিয়ে দিচ্ছে এবারের ২১শের স্লোগান৷ বিজেপিকে তোপ দেগে ভোটের পরই যার টিউন সেট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ ‘ইভিএম নয়, ফেরানো হোক ব্যালট’৷ এরই ফাঁকে বিকেলে মঞ্চ দেখে যান স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জানিয়ে দিলেন, ‘‘২১শে ভোটের কথা নয়৷ সামনে লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা৷ বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে এই সমাবেশ নয়৷’’

লড়াকু নেত্রীর গলায় হঠাৎ কেন এই সুর? যে নেত্রী গত বছর এই মঞ্চ থেকে ৪২-এ ৪২-এর ডাক দিয়েছিলেন, তাঁর মুখেই কিনা এই সুর! প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতায় এসে গত কয়েক বছরের যে উপচে পড়া ভিড় হয় এবার তা নাও হতে পারে৷ বুঝতে পারচ্ছেন মমতা৷ তাই কিছুটা মিহি সুর তাঁর গলায়৷

উত্তরবঙ্গ এবার তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে৷ সাত আসনে শাসক দলের ভাঁড়ার শূন্য৷ দলের নিচুতলার বহু কর্মী ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন বিজেপিতে৷ দোষর গোষ্ঠীকোন্দল৷ যারা আসতো তাদের অনেকেই আটকে গিয়েছেন উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টি কারণে৷ বাকি রইলো রাজ্যের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল৷

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরে তৃণমূল জিততে ব্যর্থ৷ ফুটেছে পদ্ম৷ এইসব এলাকায় তৃণমূলের সংগঠনেও ঘুন ধরেছে৷ ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জঙ্গলমহল বা পশ্চিমের জেলা থেকেও এবার বেশ কম পরিমান মানুষ আসবেন বলে মনে করছে জোড়াফুল শিবির৷ স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারির৷ জাতীয়স্তরে বিরোধী শিবিরের জমায়েতের ডাক দিলেও সেবার ব্রিগেডের বেশকিছুটা ফাঁকা ছিল বলেই আওয়াজ উঠেছিল৷

বাকি রইল দক্ষিণবঙ্গ৷ নেতাদের আশা লোকসভা ভোটে ফলাফলের মতো ২১শের সমাবেশ ভরানোর ক্ষেত্রেও হাওড়া, হুগলি, দউি পরগনা, দুউ মেদিনীপুর, নদিয়াই মান রাখবে৷ তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য অন্তত্য লাখ দুয়েক লোক এনে সভাস্থল ভরিয়ে দেওয়া৷ এতে দিদিন বিরাগভাজন হতে হবে না৷ কিন্তু, সাড়া কলকাতায় জোড়াফুলের পতাকা হাতে লোকের দেখা মেলায় খামতি দেকা যাবে৷

তাই দুরুদুরু বক্ষে আপাতত বিজেপির রাম নামই জপছেন রাজ্যের শাসক দলের নেতারা৷ ভিড় টানতে চলছে ফোনাফুনি৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।