কানপুর: মরনোত্তর দেহ দান করার শপথ গ্রহণ করার জন্য এক মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করল মাদ্রাসা৷ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে৷

রামা ডেন্টাল কলেজের ডক্টর আরশাদ মনসুরির সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে৷ তিনি স্থির করেছেন কানপুরের জিএসভিএম মেডিক্যাল কলেজে গবেষণার জন্য তিনি নিজের দেহ দান করবেন৷ তিনি বলেন, “আমরা, ডেন্টাল কলেজের পড়ুয়া ও স্টাফরা একটি অঙ্গীকার করেছি৷ ২০০৬ সালে এর জন্য আমরা একটি ফর্মও ফিল আপ করি৷ আমরা শপথ নিই, মৃত্যুর পর আমরা আমাদের দেহ দান করব৷ কলেজের গবেষণার জন্য এটা জরুরি৷ অথবা কারোর দরকার হলে দান করার পর দেহ থেকে অঙ্গও ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা যায়৷ মানবিকতার খাতিরে এটা দরকার৷”

কিন্তু মনসুরির এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানায়নি৷ ফলশ্রুতি হিসেবে মাদ্রাসা এহসানুল মাদ্রাইসের তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়৷ বলা হয় এটি ইসলাম বিরুদ্ধ৷ দরুল উলুম দেওবন্দও এই ফতোয়াকে সমর্থন করেছে৷ তারাও বলেছে, মৃত্যুর পর দেহ দান করা যায় না৷ “আমরা শুধু সেটাই দান করতে পারি যা আমাদের রয়েছে৷ মানুষের শরীর আল্লাহের অবদান৷ মৃত্যুর পরেও তা আল্লাহেরই অবদান৷ যে কোনও কারণে এক টুকরো করা ইসলাম বিরুদ্ধ৷ মৃত্যুর পর দেহ শ্রদ্ধার সঙ্গে কবর দেওয়া উচিত৷” বলেছেন মাদ্রাসা দারুল উলুম কোরান৷

মনসুরির বিরুদ্ধে যে ফতোয়া জারি করা হয়েছে, সেখানে জানানো হয়েছে, “আল্লাহের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানব শরীর দান বেআইনি এ ইসলাম বিরুদ্ধ৷” এই ফতোয়ার সমর্থনে মাদ্রাসার মুফতি হানিফ বরকতি বলেছেন, “মানব শরীর আল্লাহের সম্পত্তি৷ মৃত্যুর পরও তা থেকে যায়৷ এটা শারিয়ার নির্দেশ৷ কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷”

ফতোয়া জারির পর থেকে মনসুরির কাছে হুমকি ফোন আসছে বলে অভিযোগ৷ পুলিশের কাছে এনিয়ে তিনি অভিযোগও জানিয়েছেন৷ বলেছেন, “মৌলভিরা এর ভুল ব্যাখ্যা করছে ও মানুষকে ভুল পথে চালিত করছে৷ কর্নিয়ার আয়ু প্রায় ৩০০ বছর৷ আল্লাহও চান একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্যজনের এসব কাজে লাগুক৷ আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে নড়ব না৷ বিভিন্ন নম্বর থেকে আমার কাছে হুমকি ফোন আসছে৷ এনিয়ে পুলিশকে আমি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি৷”