তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আধার কার্ড নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এবার বাঁকুড়া-২ ব্লকের কোষ্টিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মুকুন্দপুর গ্রামের শেখ মনসুর নামে বছর ষাটের এক ব্যক্তির আধার কার্ডে নিজের নাম ঠিক থাকলেও বাবার নামের জায়গায় লেখার অযোগ্য, অশালীন শব্দ থাকার অভিযোগ উঠল। যা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই আধার কার্ড তৈরির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় গোরু ব্যবসায়ি শেখ মনসুর পাঁচ বছর আগে ওই আধার কার্ড হাতে পান। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে শিবির করে ওই আধার কার্ড তৈরি হয়। আর তা হাতে পেয়েই চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় তাঁকে। আধার কার্ডে নিজের নাম ঠিক থাকলেও বাবার নামের জায়গায় লেখার অযোগ্য অশালীন শব্দ রয়েছে। এই অবস্থায় তৈরি করতে পারেননি ব্যাঙ্কের পাশ বই। এমনকি একশো দিনের কাজে প্রকল্পের জবকার্ড সহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত তিনি। এই কার্ড নিয়ে যেখানেই গেছেন সেখানেই চরম অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। কেউ কেউ টিপ্পনী কাটতেও ছাড়েননি। এই অবস্থায় অশালীন শব্দযুক্ত আধার কার্ড নিয়েই দিন কাটছিল তাঁর।

সম্প্রতি, এনআরসি ইস্যুতে ভীত সন্ত্রস্ত ওই ব্যক্তি আধার কার্ড সংশোধন করাতে স্থানীয় নিকুঞ্জপুর স্কুল মোড়ের এক তথ্যমিত্র কেন্দ্রে যান। ওই তথ্যমিত্র কেন্দ্রের অপারেটরও তাঁর আধার কার্ড দেখে তাজ্জব হয়ে যান। সুলতান আলি নামে তথ্যমিত্র কেন্দ্রের অপারেটর বলেন, ওই বৃদ্ধ আমার কাছে আধার কার্ড সংশোধনের জন্য এসেছিলেন। ভুলে ভরা আধার কার্ড দেখেছি। কিন্তু এই ধরণের অশালীন শব্দ যুক্ত আধার কার্ড এই প্রথম দেখলাম। প্রান্তিক এই মানুষটির নিজের কোনও ফোন নেই। তিনি যেভাবে গত পাঁচ বছর ধরে, বিভিন্ন জায়গায় অপমান আর লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন তার মূল্য কে দেবে বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

শেখ মনসুর কলকাতা ২৪×৭ কে টেলিফোনে বলেন, বাবার নামের জায়গায় ওই অশালীন ভাষাযুক্ত আধার কার্ড নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে ভীষণ সমস্যায় রয়েছি। বেশ কয়েক জায়গায় অপমানিত হওয়ার পর আর ওই কার্ড বের করতে পারিনি। এখন এনআরসি ইস্যুতে ভিটে মাটি ছাড়া হওয়ার ভয়ে লাজ লজ্জা দূরে সরিয়ে আধার কার্ড সংশোধন করতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে তিনি জানান।

এই বিষয়ে কোষ্টিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চণা বীরের স্বামী ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সাধন বীর বলেন, যে সংস্থা ওই আধারকার্ড তৈরি করেছিল, ভুলটা তাদেরই। ২০১৫ সালে গ্রাম পঞ্চায়েতে শিবির করে আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। অনেকের অনেক কিছু ভুল থাকলেও এই ধরণের অশালীন শব্দ যুক্ত আধার কার্ডের খোঁজ এই একটিই পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

এই আধার কার্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বাঁকুড়া-২ ব্লকের বিডিও শুভময় চক্রবর্তীর সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আধার কার্ড সংশোধনের ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে সাহায্য করা হবে বলেও তিনি জানান।