সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : কোনও আড়ম্বর নয়, ছেলের চার বছরের জন্মদিন অন্যরকম ভাবে পালন করলেন বাবা। নিজেকে জরালেন শিক্ষার সঙ্গে। কাছে টানলেন প্রান্তিক পড়ুয়াদের। দিলেন উপলক্ষ্যে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা-১ ও বাগনান-১ ব্লকের বেশ কিছু প্রান্তিক পড়ুয়াদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিলেন বই উপহার।

হাওড়ার দম্পতি সুচন্দ্রিমা ও বিমান। সুচন্দ্রিমা ও বিমানের একমাত্র পুত্র ঋদ্ধিশের চার বছরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমতার উদং কালীমাতা আশ্রম প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’। সেই অনুষ্ঠান থেকে কিরণ, পুষ্কর, সাবানাদের মতো ১০ জন লড়াকু মেধাবী পড়ুয়ার হাতে বই, খাতা, কালারবক্স, পেন্সিল বক্স, জ্যামিতি বক্স, পেন, চকোলেট সহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পেশায় শিক্ষিকা সুচন্দ্রিমা সেনগুপ্ত জানান,”এবার ছেলের জন্মদিনকে একটু অন্যভাবে পালন করব ভেবেছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির কর্তা মানস পাল জানান,”আমাদের সংস্থা শিক্ষায় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে হাওড়া জেলাজুড়ে কাজ করে।” নতুন বছরে শিক্ষাসামগ্রী পেয়ে খুশি মিতুল, পূর্ণিমার মতো পড়ুয়ারা।

এমনই এক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্বপ্ন দেখার উজান গাং। তখন ভরা লকডাউন। এদিকে এক ছেলের অদম্য পড়াশোনার ইচ্ছা। পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন এক যুবক। সৌভিক চৌধুরী নিজের ২৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে অর্ঘ্য নামে বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে তার হাতে তুলে দেন হুইল চেয়ার।

স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কখনও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বাস্থ্য। সেরকমই একজন অর্ঘ্য জানা। গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের পূর্ণাল গ্রামের বাসিন্দা। বয়স যখন তিন,তখন থেকেই চলাফেরায় অক্ষম বছর তেরোর এই কিশোর।এখন হাতে পেন ধরতেও সমস্যা হয়। তবু মা’য়ের কোলে চেপেই স্কুলে যাওয়া। মায়ের সহযোগিতাতেই খাতা,পেন নিয়ে আগামীর স্বপ্ন বোনা।দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে ছেলের জন্য হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য বাবার নেই।সরকারি-বেসরকারি স্তরে বহু চেষ্টা করেও মেলেনি হুইল চেয়ার। তা ই-স্কুল বাড়ির বাইরে যাওয়া সবক্ষেত্রেই মা’য়ের কোলই ভরসা। অর্ঘ্যর এই হার না মানা লড়াইয়ে সাথী হয়ে এগিয়ে এলো আমতা-২ ব্লকের সৌভিক চৌধুরী। পেশায় শিক্ষক সৌভিক চৌধুরী নিজের ২৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেনহুইল চেয়ার সঙ্গে ছিল এক বাক্স চকোলেট।

অমরাগড়ী মেনকা স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের এই তরুণ শিক্ষকের কথায়, ‘প্রতিবছরই নিজের জন্মদিনে পথশিশুদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি।এবার পরিস্থিতি ভীষণ প্রতিকূল। তাই আমাদের সংস্থার সদস্যদের জানালে তাঁরাই আমায় অর্ঘ্যের বিষয়ে জানান।’ অবশ্য শুধু জন্মদিন নয়,সারাবছরই আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর মাধ্যমে নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত রাখেন রসায়ন ভক্ত এই তরুণ শিক্ষক। হুইল চেয়ার পেয়ে খুশি অর্ঘ্য। অর্ঘ্য জানায়, “আমার হুইল চেয়ারটা খুব প্রয়োজন ছিল। আমার পড়াশোনা ও চলাফেরার ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে।” অর্ঘ্যর মা প্রিয়ঙ্কা দেবী বিষন্ন স্বরে বলেন,”ছেলেটা ছোটো বেলায় হাঁটাচলা করতে শিখল।কিন্তু,তিনবছর বয়স থেকে ওইযে অক্ষম হয়ে গেল।আর ঠিক হল না।অনেক চিকিৎসা করিয়েছি।কিন্তু আর ঠিক হলনা।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।