বারাকপুর: এবার অনার কিলিংয়েরের মত ঘটনা ঘটলো উত্তর ২৪ পরগণাতে। বাবার অমতে মেয়ে বিয়ে করায় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দা ও কুড়োল দিয়ে মেয়েকে এলোপাথারি কোপালো বাবা। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো উত্তর ২৪ পরগনার আশোকনগরে।

অভিযুক্ত বাবা দুলাল মজুমদার রবিবার থেকে পলাতক ছিলেন। আক্রান্ত মেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ।

মাস তিনেক আগে কল্যাণগড় পুরসভার এগারো নম্বর ওয়ার্ডের গোলবাজার এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর হালদারকে ভালেবেসে বাবার অমতে বিয়ে করে অশোকনগর পুরসভা এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনকল্যাণ পল্লীর বাসিন্দা বর্নালী মজুমদার। আক্রান্তের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে সেই বিয়েতে ছেলের বাড়ির মত থাকলেও বিয়েতে মত ছিল না মেয়ের বাবার।

অভিযোগ রবিবার বেলা ১০টা নাগাদ মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে ডাকাডাকি করে বর্ণালীর বাবা দুলাল মজুমদার । ঘরের ভেতর থেকে মেয়ের আওয়াজ পেয়ে আচমকাই ঘরে ঢুকে অভিযুক্ত বাবা দুলাল সঙ্গে নিয়ে আসা ধারালো কুরুল ও দা দিয়ে মেয়েকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে । বর্ণালীর শাশুড়ি বাধা দিতে এলে তাকেও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। মেয়ে বর্নালিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বাবা দুলাল মজুমদার । এরপর আক্রান্তের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে এবং রক্তাক্ত যুবতীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। আক্রান্ত বছর একুশের বর্ণালীকে গুরতর আহত অবস্থায় প্রথমে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন – তারস্বরে বাজছে মাইক, প্রতিবাদে তৃণমূল কাউন্সিলরের হাতে চড় খেলেন যুবতি

আক্রান্ত বর্ণালী দেবীর মা সোমা মজুমদার এদিন মেয়ের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন “আমার স্বামী দুলাল মজুমদারের মেয়ের পালিয়ে বিয়ে করা তে খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন মাঝে মাঝেই মেয়ে কে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে বলতেন। মেয়ে না ফিরলে আমাকে কোপানোর হুমকি দিতেন। আর আজ সেটাই সত্যি সত্যি করে ফেললো।”

এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে এলাকায়। অশোক নগর থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । পরে গ্রেফতার করা হয় পলাতক বাবাকে।