বারাকপুর: ছেলের নার্ভের সমস্যা৷ বহু চেষ্টা করেও সুস্থ করতে পারেননি বাবা৷ অন্যদিকে পকেটও আর সঙ্গ দিচ্ছিল না৷ সেই অবসাদে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ মারেন বাবা৷ মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন দু’টি দেহ৷ শুক্রবার রাতে আগরপাড়া ও সোদপুর স্টেশনের মাঝে ছ’ নম্বর রেলগেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে৷ মৃতদের নাম শ্যামল দাস (৪৮) ও দীপ দাস (১১)৷

আরও পড়ুন: পার্কের মধ্যে এটা কি করছেন এই দম্পতি! ফাঁস ছবি

পানিহাটি গান্ধিনগরের বাসিন্দা ছিলেন শ্যামল দাস৷ বিটি রোডের ধারে ফুটপাতে তাঁর একটি সাইকেল সারাইয়ের দোকান ছিল৷ যৎসামান্য আয়৷ তা দিয়েই অতিকষ্টে সংসার চালাতেন৷ বছর দশের আগে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হন শ্যামলবাবুর স্ত্রী বেলা দাস৷

আরও পড়ুন: টাইগার হিল জয় করা সেই অফিসার এবার চিনকে সামলাবেন লাদাখ সীমান্তে

এরপর থেকে অসুস্থ ছেলের সব দায়িত্ব তিনিই কাঁধে তুলে নেন৷ অভাবের সংসার৷ তবু ছেলের চিকিৎসায় কোনওদিন কোনও খামতি রাখেননি৷ গত রবিবারই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন৷ ছেলে নার্ভের রোগী৷ সবসময় খেয়ালে রাখতে হতো৷ এত খরচ কীভাবে চালাবেন সবসময় সে ভাবনাই তাড়া করে বেড়াতো অসহায় এই পিতাকে৷

আরও পড়ুন: খুদে নবাবের এই পোশাকের দাম শুনলে, চোখ কপালে উঠবে আপনার

শুক্রবার শ্যামলবাবুর গান্ধিনগরের বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়৷ শ্যামলবাবু লিখে গিয়েছেন, ‘‘ছেলেকে সুস্থ করতে পারলাম না৷ তাই আত্মহত্যা করলাম৷’’ এমন মর্মন্তুদ স্বীকারোক্তি চোখে জল এনেছে প্রতিবেশীদের৷ শনিবার রেলপুলিশ বাবা-ছেলের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যায়৷