সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ছেলে আজকের দিনেই ছেড়ে চলে গিয়েছিল অরিন্দমবাবুকে। একমাত্র সন্তান। কষ্ট কুরে কুরে খায়। ছেলে বড় খেতে ভালোবাসতো। ভালোবাসতো খাওয়াতেও। প্রত্যেক বছর জন্মদিনে বাবাই নিজেও খেত খাওয়াকে এলাকার লোকজন ও বন্ধুবান্ধবদের। কিন্তু কি যে হল! ছেলের স্মৃতিতে গনেশ চতুর্থীতে বাবা খাওয়ালেন ১৫০ অনাথ শিশুকে।

প্রত্যেক বছর ঘটা করেই ছেলে বাবাইয়ের জন্মদিন পালন করতেন বাগুইআটি নিবাসী অরিন্দম মিত্র। গত বছর সব পালটে যায়। গণেশ চতুর্থীর দিনে ছেলে আত্মহত্যা করে। আজ এক বছর। বাবাই মারা যাবার পর দেড়শো জনের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন অরিন্দমবাবু নিজের হাতে। ওঁদের মধ্যেই নিজের ছেলেকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন। আজ গণেশ চতুর্থী। বাবাই নেই। ছিল বাবাইয়ের ছবি। হয়তো সব দেখতে পাচ্ছে এই ভাবেই বাবাই। শুধু প্রাণটাই নেই ফটোতে।

উত্তর ২৪ পরগনার বীরপুর গ্রামে ডেভিডের অনাথ আশ্রমে বসবাস অরিন্দমবাবুর দেড়শ জন ছোট ছোট বাবাইদের। তাঁদের খাওয়ালেন পাত পেড়ে। বাবাই যে খাবারগুলো খেতে ভালবাসত আজ অরিন্দমবাবু সেগুলোই খাওয়ালেন ওঁদের। ছোট ছোট বাবাই দের সাজ পোশাক অন্যদিনের থেকে একটু অন্যরকম। আজ গণেশ চতুর্থী। ওঁদের মুখে দেখা গেল গণেশের মাস্ক। সামনে প্লেট সাজানো রকমারি মোদক। এভাবেই গণেশ চতুর্থীতে বাবাইয়ের মৃত্যু তিথিতে পালন করলেন বাবা। দুঃখের মধ্যেই ‘গণেশ’দের ভুরিভোজ করিয়ে খুঁজলেন অলীক সুখ।

অরিন্দমবাবুর কথায়, ‘ছোট ছোট ছেলে মেয়ে। এদের মধ্যেই আমি খুঁজে পাই আমার বাবাইকে। আজ গণেশ চতুর্থী। চার দেওয়ালের মধ্যে ওরা আটকা। তাই ওদের সঙ্গে একটু আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করলাম। যে কষ্ট আমি পেয়েছি তা ভুলে যাওয়া যায় না। ওদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে গনেশ সাজিয়ে দুঃখ ভোলার চেষ্টা করলাম।’

প্রসঙ্গত, করোনা আবহে এবার দেশজুড়েই গণপতি বন্দনার ছবিটা একদম অন্যরকম। অনেক পুজো কমিটি করোনার কারণে এই বছর গণেশ পুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাঁরা পুজো করবেন তাঁরা একেবারেই সাধসিধেভাবে পুজো হবে বলে জানিয়েছেন।
গণেশ পুজো চলে দুই থেকে ‌দশ দিন। তারপর ১১ দিনের মাথায় শোভাযাত্রা করে মূর্তি নিয়ে গিয়ে জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। যে কোনও কাজে সমৃদ্ধি তথা সিদ্ধি দান করেন গণেশ। এ ছাড়াও বুদ্ধিভ্রষ্ট মানুষকে বুদ্ধি দান করেন তিনি।

তাই গণেশ চতুর্থীর পূজা উপলক্ষে ভগবানের আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপন করা হয় সুখ ও সমৃদ্ধিকেও। বাড়িতে গণেশ পূজা করলে সেখানে সুখ, শান্তি যেমন বজায় থাকে, তেমনই প্রবেশ করতে পারে না বিপদও। এই বছর গণেশ চতুর্থীর সময়ট পড়েছে শনিবার সন্ধে ৭.৫৭ মিনিট অবধি এবং হস্ত নক্ষত্রও সন্ধে ৭.১০ মিনিট পর্যন্ত রয়েছে। শাস্ত্র মতে, এই দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত পড়েছে যে সময়ে গণেশের পুজো করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।