রাঁচি: জয় শ্রীরাম স্লোগান না দেওয়ার ‘অপরাধে’ গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয়েছে ঝাড়খণ্ডের যুবক শামস তাবরেজ আনসারির। যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে সমগ্র দেশে।

এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেড় দশক আগে এই একই উপায়ে মৃত্যু ঘটেছিল তাবরেজের পিতার। বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করেছেন তাবরেজের কাকা মারসুদ আলাম।

আরও পড়ুন- রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সুখবর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পে-কমিশন নিয়ে আশা

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ বছর আগে গণপিটুনির কারণেই তাবরেজের পিতার মৃত্যু হয়। এমনই দাবি করেছেন মারসুদ আলম। যদিও দাদাকে খুন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাবরেজের কাকার কথায়, “বন্ধুর সঙ্গে ঝামালে হয়েছিল। এবং সেই কারণেই তাঁকে(তাবরেজের পিতা) খুন করা হয়।”

মারসুদ আলম

দেড় দশক পুরনো স্মৃতি মনে করতে গিয়ে এখনও শিউরে উঠছেন মারসুদ আলম। তিনি জানিয়েছেন যে আচমকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তাবরেজের পিতা। বেশড কয়েকদিন পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময়ের পুলিশের রিপোর্টকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। মারসুদ আলম বলেছেন, “মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে আমরা দাদার মৃত দেগ পেয়েছিলাম। পুলিশের রিপোর্ট আমরা মানি না।”

আরও পড়ুন- দাম নিয়ে সিইএসসি-র সঙ্গে বৈঠক করবেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

গত সপ্তাহে ঝাড়খণ্ডে মোটরবাইক চুরির অভিযোগ এনে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ মৃতের নাম শামস তবরেজ৷ বয়স-২৪৷ মঙ্গলবর সন্ধ্যায় সে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় বলে জানা যায়৷ এরপর তাকে পোলে বেঁধে সাত ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পেটানো হয়, সেই সঙ্গে তাকে ‘জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান’ বারবার বলতে বাধ্য করা হয়, এমনটাই অভিযোগ যুবকের পরিবারের৷ এরপর বুধবার ভোরে সে অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷

তবরেজের আত্মীয়রা তার যথাযোগ্য চিকিৎসার কথা বললেও পুলিশ তা কানে নেয়নি বলে অভিযোগ৷ পুলিশ এবং যারা তবরেজকে মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছে মৃত যুবকের পরিবার৷ পুলিশের মতে, তবরেজ অসুস্থ হয়ে যায় এবং টাটা মেইন হসপিটালে মারা যায়৷ পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷

বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় সরব হয়েছিল বিরোধী শিবির। জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ধরনের ঘটনা কখনই সমর্থন যোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।