স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ দীর্ঘদিনের৷ খোঁজও নেননা স্ত্রী৷ এমনই অভিযোগ ছিল৷ কিন্তু তার পরিণতি হিসেবে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের সামনে বাবা ঝাঁপ দেবেন, তা হয়ত বুঝতে পারেনি পরিবার৷

স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তির জেরে নিজের দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বাবা। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রাম ষ্টেশন লাগোয়া ভূমিজ পাড়ায়। মৃতদের নাম রাকেশ সিং (২৪) এবং তাঁর দুই ছেলে অজয় সিং (৫) এবং বিজয় সিং (৩)।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রাকেশ সিং-এর স্ত্রী লক্ষ্মী সিং-এর সঙ্গে বিবাদ চলছিল রাকেশের। প্রায়শই সে রাকেশ সিংকে ছেড়ে চলে যাবার কথাও বলছিল। তা নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় বসে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। মৃত রাকেশ সিং-এর বাবা দিলীপ সিং জানিয়েছেন, গত নভেম্বর মাসে কালীপূজো দেখতে যাবার নাম করে লক্ষ্মী সিং বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তারপর আর শ্বশুরবাড়ি ভূমিজ পাড়ায় ফিরে আসেননি।

তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার চেষ্টাও চালান রাকেশ। সোমবার রাকেশ শ্বশুরবাড়িতে যান। দিলীপবাবুর অভিযোগ, সেই সময় তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যে নাগাদ রাকেশ বাড়ি ফেরে। অন্যান্যদিন তার দুই সন্তান তাদের ঠাকুমার কাছেই রাতে ঘুমাতে যায়। সোমবার রাকেশ দুই সন্তানকে নিজের কাছে রেখে ঘুমাতে যান।

দিলীপবাবু জানিয়েছেন, রাত্রি ১০টা নাগাদ রাকেশকে ভাত খাবার জন্য ডাকতে গেলে দেখতে পান ঘরে কেউ নেই। এরপর তিনি পাড়ায় খুঁজতে বার হন। সেই সময় রেলের একজন কর্মী তাঁকে জানান, রেল লাইনে একটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। বর্ধমান হাওড়াগামী ৯ বেজে ১৫ মিনিটের লোকালে আত্মঘাতী হন সন্তান সহ রাকেশ।

এরপর তিনি গিয়ে তাঁর ছেলের মৃতদেহ এবং সেখান থেকে কয়েকফুট দূরে দুই নাতির দেহ দেখতে পান। গোটা এঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিলীপ সিং জানিয়েছে্ন, স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি জেরে নিজে আত্মঘাতি হলেও তাঁর দুই নাবালক শিশু সন্তানকে কে দেখবে এই চিন্তা থেকেই সম্ভবত দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মঘাতী হয় রাকেশ।

মৃতের আত্মীয় সুভাষ দলুই জানিয়েছেন, অন্য দুই পুরষের সঙ্গে সমান্তরালভাবে সম্পর্কে রেখে চলছিল লক্ষ্মী। তা নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন রাকেশ। আর তাই তাকে ছেড়ে অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করছিলেন লক্ষ্মী। সুভাষবাবু জানিয়েছেন, এব্যাপারে লক্ষ্মী সিং-এর মাকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। তাঁরা মেয়েকে সাবধান করতে পারলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। এদিকে, এই ঘটনার পর ছোট পুত্রবধূ এবং তার বাবা-মার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন দিলীপবাবু।

আরও পড়ুন : আগামী ২৪ ঘন্টায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস

মঙ্গলবার সকালে খবর পাওয়ার পর মশাগ্রাম জিআরপি মৃতদেহ উদ্ধার করে কামারকুণ্ডু নিয়ে চলে যায়। যদিও রাকেশের পরিবারের দাবী, এতবড় দুর্ঘটনার খবর পেয়েও লক্ষ্মীদেবী শ্বশুরবাড়িতে আসেননি, এমনকি খোঁজও নেননি। শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে ভীমগেট এলাকায় লক্ষ্মীদেবীর বাপের বাড়ি।

এই ঘটনা সম্পর্কে লক্ষ্মীদেবী জানিয়েছেন, মদ খেয়ে তাঁকে মারধর করা হত। এমনকি সন্তান হবার পর এই অত্যাচার আরও বাড়ে। তাই তিনি রাকেশের সঙ্গে ঘর করতে চাননি। সন্তান সহ স্বামীর এই আত্মঘাতী হবার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্যই করতে চাননি। এমনকি অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।