কলকাতা: এ যেন পণ্য কেনাবেচা। কড়কড়ে নোট দাও, ছেলেকে ফেরত নিয়ে যাও! বাবার হাতে পণবন্দি ছেলেকে ছাড়াতে মাকে খরচ করতে হবে ৫০ হাজার টাকা ! শুধু তাই নয়, স্বামীর হুমকি, চাহিদামত টাকা না মেটালে, ছেলেকে আর কোনদিন ফেরত পাবেন না স্ত্রী ।

একবিংশ শতাব্দীর দোড়গোড়ায় এসে এমন ঘটনা বাবা-ছেলের সম্পর্কে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে৷ বাবার হেফাজত থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক মহলের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ মায়ের। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে ফিরে পেতে জেলাশাসক এবং পুলিস সুপারের দরজায় ঘুরেও সাড়া মেলেনি।

এই সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপের ক্ষমতা থাকলেও ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই গৃহবধু। আগামী শুক্রবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক জয়ের স্বপ্ন বিষ্ণুর

এপ্রসঙ্গে মামলাকারির আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায়চৌধুরি বলেন, ২০০৮ সালের এপ্রিলে রায়দিঘী থানা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয় পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এলাকার বাসিন্দা ভবশংঙ্কর আচার্যের। বিয়ের কয়েকবছরের মধ্যে পুত্র সন্তান হয় ওই দম্পতির। পুত্র সন্তান হওয়ার পরে কর্মহীন ভবশংঙ্কর ১ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করতে শ্বশুর বাড়িতে প্রস্তাব পাঠায়। যেহেতু ওই বধুর মা আয়ার কাজ করেন। সেজন্য, যতদিন জামাই নিজের পায়ে দাঁড়াতে না-পারছে ততদিন মাসিক দু’হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিমাসে সেই অর্থ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায়, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বধুর ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে।

আইনজীবীর বয়ান অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ২০১৭ র জানুয়ারিতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন ওই মহিলা৷ এর পরই নিম্ন আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করে ভবশংঙ্কর। কিন্তু এর মাঝেই পারিবারিক মীমাংসা হওয়ায় ফের স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন মহিলা। বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তুলতে ১৮র নভেম্বরে ফের পারিবারিক সালিশি সভা বসে। মামলা তুলে নিতে ভবশংঙ্কর এককালীন টাকা দাবি করে বসে। এতেই ওই বধুর বাড়ির লোকেরা বেঁকে বসেন। সালিশি সভাতেই দু’পক্ষে বচসা শুরু হলে ওই বধু ফের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে যান।

আরও পড়ুন : নাইট শিফট করেন? শরীর ঠিক রাখতে মেনে চলুন এই ৫টা নিয়ম

ঘটনার সাত দিন পর ২৪ তারিখে ভবশংঙ্কর রায়দিঘীতে গিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতে চান। কিন্তু, পরের দিন স্বামী ছেলেকে নিয়ে নিঁখোজ হয়ে যান৷ ২৬ নভেম্বর ওই বধু রায়দিঘী থানা, কাকদ্বীপ পুলিশ সুপার এবং শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ১২ ডিসেম্বর ভবশংঙ্কর স্ত্রীকে ফোন করে জানান, যে ছেলে তার কাছেই রয়েছে৷ সন্তানকে ফেরত পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

অভিযোগ, পরের দিন ৫ হাজার টাকা নিয়ে বধুর বাড়ির লোকেরা ভবশংঙ্করের বাড়িতে সেই টাকা দিলেও ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু, ভবশংঙ্কর জানিয়ে দেয়, যতক্ষণ পুরো টাকা না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ ছেলেকে ফেরত পাবেন না স্ত্রী।

ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দরবার করতে শুরু করেন ওই বধু। এসডিও -এসপি কাকদ্বীপ সহ-আলিপুর জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন মহিলা। কিন্তু সুরাহা না মেলায় সম্প্রতি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।