স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরে। অভিযুক্তকে পুলিশ সোমবার রাতেই গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণগঞ্জ কাইতি পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নবম শ্রেণীর ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবার হাতে নিগ্রহের শিকার। কিন্তু এত দিন সে ভয়ে কাউকে সে কথা বলতে পারেনি। পরে স্কুলের শিক্ষিকাদের কাছে বিষয়টি সে জানায়।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশে আমাদের স্কুলে ছাত্রী ছাত্রীদের সাহায্যের জন্য ‘স্টুডেন্ট সেফটি এন্ড সিকিউরিটি কমিটি’ ও ‘বিশাখা’ নামে দু’টি কমিটি আছে। গত বৃহস্পতিবার সব ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে সভা করার পর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এক সহ শিক্ষিকার কাছেই ওই নিগৃহীতা ছাত্রী তার বাবার কুকীর্তির কথা বলে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পর ওই নির্যাতিতা দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল বলে জানায় সে৷’

এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে গত সোমবারই ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভরতি করেন। নিগৃহীতার বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে এদিন রাতেই অভিযুক্ত বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

পড়ুন: জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠা স্কুলে ঝুলল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চোদ্দোর ওই ছাত্রী এর আগেও বাবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তখন সে তাঁর মাকে বিষয়টি জানিয়েছিল৷ তখন ওই ছাত্রীকে তাঁর মা মাসির বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে তার জন্য পাত্র ঠিক করে বাড়িতে নিয়ে আসে তাঁকে৷ এরপরেও আবার বাবার হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে৷ ওই ছাত্রীর প্রাথমিক স্কুলে পড়া একটি বোন আছে। মা একটি কারখানায় কাজ করেন। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে তার বাবা মেয়ের উপর এই ধরণের ঘৃণ্য কাজ করত বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়েছে। নির্যাতিতার ডাক্তারির পরীক্ষা বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি যোগাড়ের ব্যবস্থাও পুলিশ করছে বলে জানিয়েছে৷ এই খবর বিষ্ণুপুর কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। গুণধর এই বাবার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরাও।