সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বাংলায় যদি শর্বরী দত্তের ডিজাইন যদি বাংলার ফ্যাশনে রুপরেখা হয় , বিশ্ব ফ্যাশন ডিজাইনের ক্ষেত্রে অবশ্যই পিয়ার কার্ডিন। বাংলার ফ্যাশন জগতে ইন্দ্রপতন ঘটিয়ে যেমন চলে গিয়েছিলেন শর্বরী দত্ত, তেমনই ২৯ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশ্ব বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। নতুন করে বিশ্ব ফ্যাশন দুনিয়াকে তাঁর আর দেওয়ার কিছু না থাকলেও তাবড় ফ্যাশন দুনিয়া তাঁর চলে যাওয়াকে অবশ্যই ইন্দ্রপতনই বলছেন।

পিয়ের কার্ডিনকে বলা হয় ফ্যাশন ফিউচারিস্ট। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ২ জুলাই , ১৯২২ সালে ভেনিসের নিকটবর্তী ইতালীয় শহর সান বিজিও ডি ক্যালাল্টায়। পারবারিক ব্যাবসা মদ তৈরি করা। আর সেই পরিবারের ছেলেই গেলেন শ্যাম্পেন হাতে কীভাবে ফ্যাশন র‍্যাম্পে হাঁটা যায় সেই দিকে। চল্লিশের দশকের গোড়ায় তিনি পড়াশোনার জন্য ইতালি ত্যাগ করেন। সেই সময় আবার চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধের শেষের দিকে তিনি শিল্পের দেশ ছেড়ে আসেন ভালোবাসার শহর প্যারিসে। যেখানে তিনি ফ্যাশনে তাঁর হাত পাকাতে শুরু করেন। প্রথমদিকে, তার শিক্ষকরা মহিলাই ছিলেন। কার্ডিন জিনে পাউকিন এবং এলসা শিয়াপ্রেলির স্টুডিওতে তিনি কাজ করতেন, যার কাছ থেকে তিনি পোশাককে শিল্পীর ক্যানভাস হিসাবে উপলব্ধি করতে শিখেছিলেন। এরপরে তাঁর সাক্ষাত হয় জিন কোক্টো এবং খ্রিস্টান বেরার্ডের সঙ্গে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি প্রথম সিনেমার জন্য ড্রেস ডিজাইন করেন। ছবির নাম “বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট”।

এর মাত্র এক বছর পর তিনি তাঁর সমস্ত পড়াশোনা খ্রিস্টীয় ডায়ারের হয়ে কাজ করার জন্য ছেড়ে দেন। তিনি এই ফ্যাশন তৎকালীন মাইস্ট্রোর সঙ্গে চার বছর কাজ করে পোশাক ডিজাইনের আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপরেই তিনি তাঁর নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫০ সালে হাজির হয় পিয়ের কার্ডিন ব্র্যান্ড। ডিজাইনারের প্রথম আউটলেটটি ছিল প্যারিসের একটি ছোট্ট রাস্তায়। এই সময়ে তিনি ডিজাইনার থিয়েটারের জন্য পোশাক তৈরিতে বেশি নিযুক্ত ছিলেন। তবে খুব অল্প সময়ের পরে, তিনি তাঁর প্রথম মহিলাদের সংগ্রহ সামনে আনেন। জানা যায়, কার্ডিন অস্বাভাবিকরকম কৃত্রিম উপকরণ ব্যবহার করে তাঁর ডিজাইন করতেন। তাঁর শো-গুলিতে আলোকিত হিসাবে মুনলাইট ব্যবহার করতেন। এর মাঝেই তিনি “বল ড্রেস” উপস্থাপন করেন ,যা তাঁর শিক্ষাগুরু ডায়ারের মতোই খ্যাতি লাভ করে। এর এক বছরের মধ্যেই কার্ডিনের নাম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এর বছর তিনেক পরে তিনি পুরুষদের জন্যও পোশাক তৈরি শুরু করেন। একই সময়ে, তিনি জাপানে গিয়ে সেলাই ব্যবসার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেখান থেকে ফিরে আসার পরে পোশাকের ত্রিমাত্রিক নকশায় কোর্স পড়ানো শুরু করেছিলেন। পরের দশকটি ছিল কার্ডিনের জন্য অন্তহীন ডিজাইনের পুরষ্কারগুলির একটি সিরিজ, যা তাকে বিশ্বজুড়ে উপস্থাপিত হয়। বুলেভার্ড হউসমানের রঙিন গম্বুজের নীচে তার কাজটিকে সর্বদা একটি বিশেষ জায়গা দেওয়া হয়।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে, কার্ডিন বেজিং এবং সাংহাইতে তার প্রথম শো অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেজিং থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে তিনি তাঁর স্টোর এবং অফিস খোলেন। ১৯৯১ এর গ্রীষ্মে, কার্ডিন মস্কোতে একটি দুর্দান্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রেড স্কোয়ারে যা দেখতে প্রায় দুই লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। ধীরে ধীরে কার্ডিন স্টাইল বিশ্বে অন্যমাত্রায় পৌঁছে যায়, শুধু ড্রেস ডিজাইনে আটকে না থেকে তিনি নদীর গভীরতানির্ণয় ফিক্সচার, আসবাব এবং গাড়ির ভিতরের কার্পেট ডিজাইন, শ্যাম্পেন বোতল এবং শিশুদের খেলনা তৈরি করাও শুরু করেন। পরে তিনি ইউনেস্কোর সম্মানিত রাষ্ট্রদূত নির্বাচিত হন। ফিদেল কাস্ত্রো থেকে নেলসন ম্যান্ডেলার মতো রাষ্ট্রনায়করাও তাঁর কাজে অভিভূত হয়ে যান।

২০১০ সালে বিখ্যাত পাবলিশিং হাউস অ্যাসলাইন একটি বই পিয়ের কার্ডিনকে উত্সর্গ করে, যাতে তাঁর সেরা কাজগুলি সংগ্রহ করা হয়, নাম ছিল ‘ইনোভেশন অফ ৬০ ইয়ার্স’। কার্ডিন কেবল বিখ্যাত ট্রেন্ডসেটর নয়। তিনি বহু বিখ্যাত রেস্তোঁরার মালিক, এস্পেস কার্ডিন থিয়েটার, বিভিন্ন আসবাব এবং ইন্টিরিয়র ডিজাইনারের স্রষ্টা। পিয়ের কার্ডিন ৮০০ টি বিভিন্ন পণ্যকে পেটেন্ট করেছেন, তার ব্যবসায় দুটি থিয়েটার, রেস্তোঁরা, ৪হাজার বুটিক, সুগন্ধি, ঘড়ি, ম্যাগাজিন, আসবাব, সিগারেট এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। পেয়েছেন ২৪টি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। ‘লিজিওন অফ অনার’ , ‘কমান্ডার অর্ডার অফ মেরিট’, ‘কমান্ডার অফ অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস’ সব পেয়েছেন। কার্ডিন হাউস প্রতি বছর ২০ হাজার মডেল পোশাক তৈরি করে। বিশ্বজুড়ে তাঁর সৃষ্টিশালায় ২লক্ষের বেশি লোক কাজ করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।