প্রসেনজিৎ চৌধুরী:  দিল্লি। একদা বিদ্রোহী সিপাহীদের কেন্দ্রস্থল থেকে স্বাধীন ভারতের প্রথম বিদ্রোহী মানুষের পদধ্বনি তে মুখরিত। এই রোষ কৃষকদের। ভারতের কৃষক সমাজের অভূতপূর্ব গত ৬১ দিন মানে গত বছর থেকে আজ সাধারণতন্ত্র দিবস পর্যন্ত ‘বিশ্বের বৃহত্তম কৃষক আন্দোলন’ বলে পরিচিত হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিক্ষিপ্ত হিংসা, পুলিশের উপর হামলা, ব্যারিকেড ভেঙে পূর্ব নির্ধারিত ট্রাকটর মার্চের সবকিছু পরিকল্পনা গিয়ে ঠেকেছে লাল কেল্লার প্রধান ফটকে, পরিখার চারপাশে। শান্তিপূর্ণ কৃষক ঘেরাও থেকে অশান্ত কৃষক বিক্ষোভের কেন্দ্র দিল্লি। ১৬১ বছর পিছিয়ে যান।

এই দিল্লির লাল কেল্লা ঘিরে অস্তমিত মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট জীবনের শেষ কয়েকটি দিন শায়েরির আঁচলে মুখ ঢেকে কাটাচ্ছিলেন। বৃদ্ধ অথর্ব, সৈন্য শক্তিহীন সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের বংশ কৌলীন্য তাঁকে বাধ্য করেছিল বিদ্রোহী সিপাহীদের সর্বচ্চো নেতা হতে। পতন হয়েছিল।

ব্রিটিশ ইতিহাসের ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ অথবা কার্ল মার্কসের লেখায় ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ যে লাল কেল্লা কে ঘিরে ক্ষণিকের ক্ষমতা লাভ করেছিল তার পর দেশ স্বাধীন হওয়া ও প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন হলো দুটি মহা ঐতিহাসিক ঘটনা।

মহাবিদ্রোহের দেড় শতাব্দী পেরিয়ে ২০২১ এর সাধারণতন্ত্র দিবসে বিক্ষুব্ধ কৃষদের হিংসাত্মক অভিযানে লাল কেল্লার পরিখা পার করা আরও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সরকারের তিন কৃষি আইনের বিরোধিতা চলছে দেশ জুড়ে। দিল্লি ঘিরে রাখা লক্ষ লক্ষ কৃষক মূলত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান থেকে এসেছেন।

আর তাঁদের সমর্থনে মহারাষ্ট্র, তামিলনাডু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরলে চলছে কৃষক বিক্ষোভ। কৃষি আইন বাতিলের এই আন্দোলনের ক্রান্তিলগ্ন ২৬ জানুয়ারি। লক্ষাধিক কৃষকের উগ্র মূর্তির সামনে অসহায় রাজধানীর পুলিশ। হিংসাত্মক আন্দোলনের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়েছে দিল্লির ভিতর, অবশেষে লাল কেল্লা।

হাজার হাজার কৃষকের পদধ্বনিতে মুখরিত দিল্লি। ইতিহাস বাঁক নিল এখানেই। বিদ্রোহী কৃষকরা লালকেল্লার ‘দখল’ নিলেন। একদিন বিদ্রোহী সিপাহীরা দখল করেছিলেন তাঁদের মূল ঘাঁটি এই দুর্গ।

মহাবিদ্রোহের সেই অধ্যায়ের একটি সংযোজিত পর্ব এবার রচনা করলেন কৃষকরা। দিল্লির রাজপথ উত্তাল। প্রবল শীতে দিল্লি রাজনৈতিক উত্তাপে গরম। কৃষক বিক্ষোভের পক্ষে বিপক্ষে তর্ক যুক্তির রাজনীতি।

আর কৃষি আইনের বাতিল চেয়ে অনড় কৃষকরা রোষ দেখাচ্ছেন ফসলের অধিকার চেয়ে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।