নয়াদিল্লি: যারা হিংসাত্মক আন্দোলন করছেন তাদের সমর্থন করিনা। এটি ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা। তবে বিক্ষিপ্তহিংসা চলছে। জানিয়ে দিলেন সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা। তিনি বলেছেন, এই কৃষক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের অধিকার আদায় করবে। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে।

দিল্লি উত্তপ্ত। সাধারণতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মূল কুচকাওয়াজ শেষ হতেই কৃষক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ। অতি গুরুত্বপূর্ণ আইটিও এলাকায় পুলিশ কে কোনঠাসা করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ এগিয়ে আসেন। বাধা দিলে শুরু হয় হাতাহাতি।

এক পর্যায়ে কৃষকরা ট্রাকটর নিয়ে তেড়ে আসেন। শুরু হয় পাথর ছোঁড়া। আইটিও দিল্লির পুলিশ সদর দফতর। ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। দরিয়াগঞ্জেও সংঘর্ষ ছড়িয়েছে।

দিল্লি প্রবেশের সিঙ্ঘু, টিকরি বর্ডার হয়ে হাজার হাজার কৃষক ঢুকতে শুরু করেছেন। দিল্লি পুলিশের ঠিক করা রুট দিয়ে ট্রাকটর মার্চ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেসব উড়ে যায় বিক্ষোভের মুখে। পুলিশ লাঠি চার্জ করতেই আরও গরম হয় পরিস্থিতি।

দিল্লি পুলিশ দিশেহারা। লক্ষাধিক কৃষকের সামনে তাদের ব্যারিকেড ভাঙতে শুরু করেছে। সশস্ত্র কৃষকদের একাংশ হামলা চালিয়েছেন বাসে, পুলিশের উপরে।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুসারে দিল্লি ঘিরে ২ লক্ষ ট্রাকটরের কৃষি আইন বিরোধী মিছিলে অংশ নিচ্ছে। সংযুক্ত কিষান মোর্চার দাবি, দিল্লি পুলিশ সাধারণতন্ত্র দিবসে ৫০০০ ট্রাকটর কুচকাওয়াজের জন্য অনুমতি দেয়, কিন্তু এই সংখ্যা দু লক্ষ পার করেছে।

অন্যদিকে সারা ভারত কৃষক সভা জানিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি দেশের সর্বত্র হবে কৃষি আইনের প্রতিবাদ। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের হুঁশিয়ারি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সংসদ ভবন অভিযান শুরু হবে। ঘেরাও হবে পার্লামেন্ট। কৃষি আইন বাতিল করতেই হবে সরকারকে।

এই প্রথম সাধারণতন্ত্র দিবস ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত দু মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লি ঘিরে লক্ষ লক্ষ কৃষক। সরকারের সঙ্গে একাধিক আলোচনা ভেস্তেছে। কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, আইন বাতিল করতে হবে। সরকার চায় সংশোধনী।

এমনই টানাটানির মাঝে ২৬ জানুয়ারি দিনটি দিল্লি বিশেষ সামরিক কুচকাওয়াজের পাশাপাশি কৃষকদের ট্রাকটর মিছিল ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। এমনিতেই কৃষক আন্দোলন আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি করেছে বিতর্ক।

দিল্লির চারদিকে আউটার রিং রোড ঘিরে হচ্ছে নজিরবিহীন ট্রাকটর মিছিল। দিল্লি পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই ট্রাকটর মিছিল হবে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারী কৃষক নেতৃত্ব। তবে কেন লাঠি চার্জ উঠছে প্রশ্ন।

সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ হান্নান মোল্লার হুঁশিয়ারি, সরকারকে কৃষি আইন বাতিল করতেই হবে। কোনও সমঝোতার রাস্তা নেই।

২৬ জানুয়ারি দিল্লির পাশাপাশি, দেশের অন্যত্র হবে কৃষক মিছিল ও ট্রাকটর মিছিল। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছে কৃষক অবস্থান। নাসিক থেকে মুম্বই পর্যন্ত কৃষকদের বিরাট মিছিল পৌঁছে গিয়েছে। কৃষক সভার আহ্বানে এই মিছিল মুম্বইতে বিক্ষোভ দেখাবে। কৃষক নেতাদের দাবি, বাণিজ্যিক রাজধানীতে বিক্ষোভের রেশ ছড়াবে বিশ্ব জুড়ে।

অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডু, কেরল সহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবল কৃষক বিক্ষোভ হয়। একইভাবে গত ৬১ দিন ধরে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান থেকে আসা লক্ষ লক্ষ কৃষক কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির উপকণ্ঠে ঘেরাও করে আছেন। আন্দোলনে পরপর কৃষকদের মৃত্যু হচ্ছে।

সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমিতির যৌথ মঞ্চের কৃষক নেকাদের দাবি, আইন বাতিল না করে তারা ফিরবেন না। আন্দোলন আরও চালিয়ে যাওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।