শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, এই সত্যটাকেই প্রতিষ্টা করেছেন কোচবিহারের মাথাভাঙ্গার পচাগড়ের কৃষক রবীন্দ্র নাথ তালুকদার। সাড়ে তিন বিঘা জমিতে মুসুম্বি ফলিয়ে এখন আলোনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তিন বছর আগে চারা লাগানোর পর এবছর প্রথম ফল পেলেন তিনি। পুজোর আগে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মুসুম্বি বিক্রি করেছেন তিনি। যার মানও অনেক ভাল। তাই এই মুসুম্বি নিয়ে নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রবীন্দ্র নাথ বাবু।

কোচবিহার জেলায় ফল চাষ সেই ভাবে হয়না, তা হয় তার মধ্যে পেয়ারা, কুল ও কিছু এলাকায় আনারস চাষ হয়। তবে মুসুম্বি চাষ এর আগে হয়নি এখানে। শুধু কোচবিহার কেন আশে পাশের জেলাতেও এই চাষ হয় কিনা সেই বিষয়েও সঠিক তথ্য নেই। তিন বছর আগে মুসম্বি ফলানোর ভাবনা মাথায় আসে, সেই মত প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খরচ করে একেবারে নিজস্ব উদ্যোগে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে মুসম্বি গাছ লাগান তিনি। সেই সময় অনেকেই বলেছিল এই মাটিতে মুসম্বি টক হবে , কিন্তু তিনি দমে থাকেননি, নতুন কিছু করার জেদ চেপে বসেছিল তাঁর মধ্যে। স্থানীয় ফার্মাস ক্লাবের সহযোগিতায় তিনি সেই গাছ লাগান।

তবে ফল পেলেন এবার পুজোর আগে, দূর্গাপুজো ও লক্ষি পুজোতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করেন তিনি। যে আশংকা করছিলেন যে ফল টক হবে পারে, তেমনটা হয়নি ,খুব মিষ্টি না হলেও বেশ রসালো হয়েছে মুসুম্বিগুলি। তিনি বলেন “এই সিধান্ত নেবার সময় অনেকে অনেক কথা বলেছিলেন, কিন্তু সব ভুল প্রমানিত হয়েছে। আমি খুশী প্রথম বারের ফলন পেয়ে,”।

এই ফলের গাছ একবার লাগালে প্রায় ৩০ বছর ফল দেয় , কাজেই এই ফল থেকে আগামী কয়েক বছরে আরাও ভাল লাভ করতে পারবেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ এবারের বন্যায় প্রায় ৬০ শতাংশ ফল নষ্ট হয়েছে, তা না হলে আরও বেশী ফল ফলতে পারত। এই কাজের জন্য কোন রকম সরকারি সাহায্য পাননি তিনি। তবে জেলা উদ্যানপালন বিভাগের আধিকারিক খুরশীদ আলম সম্প্রতি ঘুড়ে গেছে তাঁর বাগান , তাঁর কথা মত সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু।

জেলা উদ্যানপালন বিভাগের আধিকারিক খুরশীদ আলম বলেন “আমাদের সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা আছে , তা দেওয়া হবে”। রবীন্দ্র নাথ বাবুর উদ্যোগের প্রশংশা করেছেন তিনি জানিয়েছেন এই মৌসুম্বির মান যথেষ্ট ভাল, আরো ভালো কিভাবে করা যায় সেই বিষয়ে উদ্যান পালন বিভাগ সাহায্য করবে।