তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ধারাবাহিক হাতির আক্রমণে জর্জরিত বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় এলাকার মানুষ। প্রতিটা রাতই এখন যেন বিভীষিকা এই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দিক থেকে আসা চারটি শাবক সহ তিরিশটি হাতির দল এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকার চাঁদুড়িয়া, ফুলবেড়িয়া, লালবাজার, বড়কুড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে।

গত সাত দিনে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের মাঠের আলু, সর্ষে, গম সহ অন্যান্য মরশুমি সবজি খেয়ে আর পায়ের চাপে নষ্ট করে দিচ্ছে৷ হাতির হানায় বেশ কয়েকটি ধানের পালুই নষ্ট হয়েছে। বাড়ি ঘর গুলিতেও দলমার দামালরা হামলা চালাতে শুরু করেছে অবাধে। এই অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বেলিয়াতোড় এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

বৃহস্পতিবার এই এলাকার চাঁদুড়িয়া গ্রামে গিয়ে হাতির আক্রমণের ছবি স্পষ্ট দেখা গেল। খামারে এনে রাখা জমির ধান নষ্ট করেই ক্ষান্ত থাকেনি হাতির দলটি। কয়েকটি মাটির বাড়ি হামলা চালিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে তারা। এমনকি বাড়ির কাছে কলা বাগানও হাতিদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এই অবস্থায় গৃহহীন হওয়ার অবস্থা কয়েকজনের। হাতির হাত থেকে কখন, কিভাবে নিস্তার মিলবে ভেবে পাচ্ছেন না গ্রামের এই প্রান্তিক মানুষরা৷ বনদফতরের ভূমিকা নিয়েও গ্রামবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে।

সময় মতো বন কর্মীদের জানালেও হাতির দলটিকে এলাকা ছাড়া করতে তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। উলটে বন্যপ্রাণী রক্ষার নামে হাতির দিকে হুলা, পাথর ছুঁড়বে না, বোমা ফাটাবেন না বলে বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী হরিকিষাণ সিং, গণেশ বাউরী, বিজয় ঘোষরা বলেন, রাত হলেই নিয়ম করে হাতি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। এখন এই অবস্থায় আমাদের বেঁচে থাকাই দায়। বনদফতরকে এই আতঙ্কের কথা বার বার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। একদিকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, অন্য দিকে হাতি সমস্যার সমাধানে তারা আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের আরও দাবি, বনদফতর হাতি তাড়াতে কোন উদ্যোগ নেবে না৷ আর আমরা নিজেরাও আত্মরক্ষার কোন পথ অবলম্বন করতে পারব না। তাহলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমরা কোথায় যাবো? এই প্রশ্নটাই এখন ঘোরাফেরা করছে বেলিয়াতোড় এলাকার জঙ্গল সংলগ্ন গ্রাম গুলিতে।

স্থানীয় বিট অফিসার মহিবুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। চেষ্টা করা হচ্ছে হাতিগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। পাঁচ ছ’টি হাতি গত রাতে ওই গ্রামে তাণ্ডব চালানোর কথা স্বীকার করে নেন তিনি৷ বলেন, খবর পেয়েই দ্রুততার সঙ্গে হাতিগুলিকে বের করে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পান সেই বিষয়ে বনদফতর উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.