নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। আর এই কৃষকরাই সমাজের বড় অংশ। তাই স্বাভাবিকভাবে কিছুটা হলেও ভোটের আগে চাপ বাড়ছে সরকারের। সরকার-বিরোধী একটা চাপ তৈরি হচ্ছে। একাধিক দাবি নিয়ে রাজধানীর পথে এগোচ্ছেন দলে দলে কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা যা উৎপাদন করছে তার থেকে আয় হচ্ছে না। ফসলের দাম অত্যন্ত কম পাওয়ায় ঋণের বোঝা বাড়ছে তাদের ঘাড়ে। ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে অনেককেই শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে। এই বিক্ষোভ দেখাতে কৃষকরা ছবিটা স্পষ্ট করেছেন যে, কতটা দাম তাঁরা পান আর কতটা দামে ক্রেতারা সেসব জিনিস কেনে।

যেমন এক কেজি টমাটোর জন্য কৃষকরা পান মাত্রা পাঁচ টাকা। অথচ সেই এক কেজি টমাটোই বাজারে ক্রেতারা কিনছেন ৩০ টাকা দিয়ে। এক কেজি আপেলের জন্য সরকারের কাছ থেকে ১০ টাকা পান কৃষকরা। আর সেই আপেল বাজারে বিক্রি হয় ১১০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে। দুধ আসে ২০ টাকা প্রতি লিটার দাম। বিক্রি হয় ৪২ টাকা লিটারে।

আর পেঁয়াজের দামের হিসেবটা শুনলে সত্যিই চমকে উঠতে হয়। বিশেষত মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ চাষিরা এই পরিস্থিতির শিকার হন। বাজারে গড়ে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এই পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম হিসেবে কৃষকরা পান ৫০-৯০ পয়সা।

মধ্যপ্রদেশের নীমুচ মান্ডি নামে এক কৃষক জানান, সেই রাজ্যের মালওলয়া এলাকায় ৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে আর আদা বিক্রি হয়েছে মাত্র ২টাকা কেজি দরে। অনেকেই এই দামে হতাশ হয়ে পালিত পশুদের ফসল খাইয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি এক কৃষককে দেড় টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি করতে হয়। ফসল বিক্রি করে পাওয়া মাত্র ১০৬৪ টাকা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে প্রতিবাদস্বরূপ পাঠিয়ে দেন তিনি। আরও এক কৃষককে তাঁর ফসল বিক্রি করতে হয় ৫১ পয়সা প্রতি কেজিতে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের অফিসে সেই টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। এক কৃষক তাঁর জমিতে বেগুন ফলিয়েছিলেন। সেগুলি ২০ পয়সা প্রতি কেজিতে বিক্রি করতে হয়। হতাশায় গোটা ক্ষেতটাই নষ্ট করে ফেলেছেন তিনি।

এভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ আর হতাশ কৃষকরা।