নয়াদিল্লি: সংঘাত আরও স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ বিদ্রোহী কৃষকদের মন ভেজাতে পারেনি। বরং আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে লক্ষাধিক কৃষক দিল্লি প্রবেশের ৫টি পথ কে অবরুদ্ধ করতে চলেছেন। সারা ভারত কৃষক সভা ( এআইকেএস) নেতৃত্বে আরও কয়েকটি কৃষক সংগঠন এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে।

মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নতুন কৃষি আইনে ভারতীয় কৃষকদের জন্য একটি সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে।” মোদী জানান, কয়েক বছর ধরে কৃষকরা যে দাবিগুলি করে আসছিল, তা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। এই আইন কৃষকদের ভালোর জন্য।

আর বিক্ষোভরত লক্ষাধিক কৃষকের দাবি,সরকার নতুন কৃষি নীতি বাতিল করুক ও এমএসপি চালু করুক। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, কোনও অবস্থায় ঘেরাও আন্দোলন বন্ধ করা হবে না।

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা হবে ৩ ডিসেম্বর। সরকার যে জায়গা বরাদ্দ করছে সেখানে হোক অবস্থান বিক্ষোভ। রবিহার অমিত শাহের আবেদন প্রত‍্যাখান করলেন আন্দোলনরত কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সরকার যদি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি না তাহলে দিল্লি সীমান্তেই বিক্ষোভ চলবে।

সরকার কে বাতিল করতেই হবে কৃষি নীতি। এই নীতি কর্পোরেট ব্যবসার সুফল দেবে। কৃষকদের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে। মূলত এই দাবিতেই সারা ভারত কৃষক সভা (এআইকেএস) নেতৃত্বে আরও কিছু কৃষক সংগঠনের যে বিক্ষোভ মিছিল চলছে তা আড়ে বহরে এখন জনসমুদ্র।

একের পর এক রাজ্য থেকে রাজধানীর দিকে হাজার হাজার কৃষকের যাত্রা অব্যাহত। উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার সীমানা পার করে দিল্লি ঘেরাও করতে মরিয়া কৃষকরা। মোদী সরকারকে টানা অবরোধে বেঁধে রাখতে অন্তত ছয় মাসের খাবার নিয়ে এসেছেন বলেই জানিয়েছেন বিদ্রোহী কৃষকরা।

দিল্লির দিকে ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকদের একাংশ। এর ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরতর। কোনও রাজ্যের সীমানায় তাঁদের আটকে রাখা সম্ভব নয়। যদিও হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ সরকার প্রাথমিকভাবে বিরাট পুলিশি ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। সেই বাধা উড়িয়েই বিরাট কৃষক বিক্ষোভ যাত্রা চলেছে। এর পরেই বিজেপি শাসিত দুই রাজ্য সরকার হাল ছেড়ে দেয়। তবে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার জানিয়েছেন, এই কৃষক বিক্ষোভ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চলছে।

বিরোধী কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই সহ বিভিন্ন বাম দল ও একাধিক বিরোধী দল কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এই আন্দোলনে সামিল এনডিএ জোট ত্যাগ করা শিরোমনি আকালি দল। তারাও সরকারের কৃষি নীতির প্রবল বিরোধিতা করে জোট ছাড়ে।

কেন্দ্রের নতুন কৃষি নীতি প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিলের সমর্থনে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও চলছে কৃষক বিক্ষোভ। বাম কৃষক সংগঠনের পাশাপাশি এতে সামিলার এআইকেএসসিসি, আরকেএমএস, বিকেইউ (রাজেওয়াল), বিকেইউ (চাদুনি) সহ অন্যান্য কৃষক সংগঠন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I