তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সরকারি ঘোষণাই সার। কবে থেকে সরকারি সহায়ক মূল্যে চাষিদের কাছ থেকে আলু কেনা হবে এমন কোন তথ্যই এখনও জানা নেই বাঁকুড়া জেলার অসংখ্য চাষি, ব্যবসায়ী থেকে হিমঘর কর্তৃপক্ষের৷ এই অবস্থায় আর্থিক ক্ষতির কথা ভেবে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে লক্ষাধিক আলু চাষির।

দু’দফার অকাল বৃষ্টিতে মাথায় হাত বাঁকুড়ার আলু চাষিদের। এক দিকে লাভজনক দাম না পাওয়া, অন্যদিকে বৃষ্টির দাপটে উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে এখন নাভিশ্বাস অবস্থা এই অসংখ্য কৃষকের। ধানের পর বাঁকুড়ার অন্যতম কৃষিজ ফসল আলু। জেলার উত্তরের কোযুলপুর, জয়পুর, ইন্দাস, পাত্রসায়র থেকে দক্ষিণের তালডাংরা, সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গা সহ বেশ কিছু ব্লকে প্রচুর পরিমাণে আলু চাষ হয়।

আর আলু চাষ থেকে ব্যবসা এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। এখন একদিকে প্রকৃতির বিরুপতা, অন্যদিকে দাম না পাওয়া, এই অবস্থায় কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না এখানকার কৃষকরা। সম্প্রতি চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়ক মূল্য সাড়ে পাঁচ টাকা কেজি দরে আলু কেনার ঘোষণা করা হলেও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে চাষিরা।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, গত তিন বছরে এই জেলায় যেখানে গড়ে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে৷ এই বছর তা বেড়ে হয়েছে ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন। এই বিপুল পরিমাণ আলু এখন কিভাবে বাজারজাত বা হিমঘরজাত করা হবে ভেবে পাচ্ছেন না কেউ।

কোতুলপুরের আলু চাষি শ্যামসুন্দর দলুই, রাজু সাঁতরারা জানিয়েছেন, ধার দেনা, আবারও কেউ কেউ বাড়িতে রাখা গহনা বন্ধক রেখে আলু চাষ করেছিলেন। একে বৃষ্টিতে যা ক্ষতি হওয়ার হল৷ তার উপর এখন আবার বাজারে সেভাবে দাম নেই৷ সরকারি সহায়ক মূল্যে কিভাবে বা কবে আলু কেনা হবে সেই বিষয়টাও স্পষ্ট নয়। এইভাবে চলতে থাকলে তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ থাকবে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

কোতুলপুর আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক বিভাস দে বলেন, ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত কোন হিমঘর খোলেনি। তবে আমরা শুনেছি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ টাকা কেজি দরে আলু কেনা হবে। তবে কবে তা শুরু হবে সেই বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই। এই বছরের যা পরিস্থিতি আলু চাষি ও ব্যবসায়ী দু’পক্ষই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তারা মনে করছেন।

হিমঘর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে যা তথ্য আছে প্রতিটি হিমঘরের যা ধারণ ক্ষমতা তার ১৫ শতাংশ সরকার আলু কিনবে। আবহাওয়া খারাপের জন্য এখনও কোন হিমঘর খোলেনি বলে জানান হিমঘর মালিক বীরেন্দ্রনাথ পাল। আগামী ৭-৮ মার্চ নাগাদ সব হিমঘর খুলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৮ মার্চ থেকে সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, জেলায় বাংলার ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাবেন। জেলায় মোট আট লক্ষ মেট্রিক টন আলু হিমঘর মালিকরা কিনবেন জানান তিনি৷ বলেন, ওই আলু কেনার জন্য বাঁকুড়া জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে খুব তাড়াতাড়ি সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।