স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের কাজ শুরু হল বাঁকুড়ায়। সোমবার ওন্দার সাহাপুর গ্রামে জেলা উপকৃষি অধিকর্তা সুশান্ত মহাপাত্রের নিজে উপস্থিতি থেকে এই প্রকল্পে এলাকার কৃষকদের নাম নথিভুক্ত করণের কাজ শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বাঁকুড়ার কৃষকরাও এই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার ২২ টি ব্লকের দু’টি করে গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সব কটি গ্রামেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই প্রকল্পে কৃষকরা দু’ধরণের সুযোগ পাবেন। এক দিকে সুনিশ্চিত আয় প্রকল্পে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য৷

অন্যদিকে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোন কৃষকের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তার পরিবার দু’লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবেন। রাজ্য কৃষি দফতরের এই উদ্যোগে খুশি জেলার কৃষকরা। তাদের মতে এর ফলে কৃষকরা সম্পূর্ণ না হলেও আংশিকভাবে হলেও লাভবান হবেন।

আরও পড়ুন: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসতেই আত্মহত্যা যুগলের

তবে ওন্দার সাহাপুর গ্রামের একাংশের কৃষক এই প্রকল্পের প্রচার ঠিক মতো হয়নি বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় কৃষক সত্যনারায়ণ পাল বলেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ যথেষ্ট ভালো। তবে কৃষকরা এই বিষয়ে সব তথ্য সঠিক সময়ে জানতে পারছেন না। ফলে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকার সবাই সুযোগ পাচ্ছেন না বলে তার অভিযোগ। সোমবার শিবির করে গ্রামে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হল। রবিবার মাইকে প্রচার হয়েছে। যা সকলের কানে পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এই ধরণের কাজে আরও প্রচারের প্রয়োজন ছিল বলে তার দাবি।

জেলা উপকৃষি অধিকর্তা সুশান্ত মহাপাত্র বলেন, রাজ্য কৃষি বিভাগের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের উপভোক্তারা দু’ধরণের সাহায্য পাবেন। সুনিশ্চিত আয় প্রকল্পে এক একর পর্যন্ত জমির মালিক পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পাবেন। তার কম হলে দু’হাজার টাকা পাবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওই টাকা বছরে দু’কিস্তিতে পাওয়া যাবে।

প্রথম কিস্তি খারিফ মরশুমে ও দ্বিতীয়টি রবি মরশুমে। এছাড়াও ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে নথিভুক্ত কোন কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবার এককালীন দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পাবেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষকের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সহ আবেদন করতে হবে বলে তিনি জানান।