শংকর দাস, বালুরঘাট: প্রধানমন্ত্রীর লকডাউন কার্ফু ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও মানুষকে বাড়ি থেকে না বেরোনোর নির্দেশ জারি করেছেন। করোনা সংক্রমণের মহামারী পরিস্থিতি রুখতে প্রধামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী দুইজনেই সকলকে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সি বজায় রাখার কথা বলেছেন।

কিন্তু সর্বোচ্চ প্রশাসনের সেই ঘোষণার পরেও দক্ষিণ দিনাজপুরের খুচরো সবজি বাজারগুলিতে মানুষের ভিড় যেন আরো বেশি করে উপচে পড়ছে। সোশ্যাল ডিসটেন্স মিনিট চলার কথা বলা হলেও বেমালুম ভুলে গেছেন বাজারের ক্রেতারা। আর হয়তো বাজারে শাক সবজি পাওয়া যাবে না এই আতঙ্কে সকলে বাজারে গিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে মজুদ করতে শাকসবজি ও মুদি সামগ্রী কিনছেন। ফলে বুধবার জেলার ছোটবড় সব বাজারে মানুষের ভিড়ে জমজমাট।

অথচ খোদ যাঁরা এই শাকসবজি বাজারে সরবরাহ করে থাকেন তাঁরা কিন্তু অন্য কথাই বলছেন। সেই কৃষকরা কিন্তু বালুরঘাটের পাইকারি সবজির সব চেয়ে বড় বাজারে ফসল বিক্রি করতে এসে পাইকারি ক্রেতা পাচ্ছেন না। আশপাশের গ্রাম থেকে শাক সবজি নিয়ে এসে তাঁরা একদিকে যেমন দাম পাচ্ছেন না।

আরেকদিকে ক্রেতাও পাচ্ছেন না। ফলের পাইকারি অধিকাংশ কৃষকই তাঁদের কষ্টার্জিত শাকসবজি বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন এবারে শাকসবজির উৎপাদন বিগত বছরগুলির তুলনায় যথেষ্ঠ ভালো হয়েছে। শাকসবজির কোন অভাব নেই। মানুষ অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে খুচরো বাজারে ভিড় করছেন ও একদিনে অনেক সবজি কিনে বাড়িতে মজুদ করার কোন কারণই নেই।

এব্যাপারে কৃষি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা জোতির্ময় বিশ্বাস জানিয়েছেন লক-জেলায় আলু পেঁয়াজ থেকে শুরু করে অন্যান্য সবজির কোন অভাব নেই। ডাউন অবস্থায় সবজি বাজার বন্ধের কোন নির্দেশ নেই। তবে দিনে বেশিক্ষণ বাজার খোলা রাখা যাবে না। পাশাপাশি বাজারে বেশি ভিড়ও করা নিষেধ রয়েছে। এমতাবস্থায় অহেতুক আতংকিত কেউ যেন না হন।