ফরিদাবাদ : ফের প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টা। লাভ জিহাদের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল ফরিদাবাদে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রকাশ্যে কলেজের সামনে তরুণীকে শুটআউট করে খুন করল দুই যুবক।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতা তরুণীর নাম নিকিতা তোমার(২১)। স্থানীয় বল্লভগড় কলেজের ছাত্রী ছিলেন তিনি।

এই বিষয়ে বল্লভগড়ের এসিপি জয়বীর সিং রাঠৌর জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলে কলেজর পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় ওই তরুণীকে দুই যুবক অপহরণের চেষ্টা করে। এরপর তরুণী ওই যুবকদর বাঁধা দিতে আসলে তাদের মধ্যে একজন পকেট থেকে রিভলবার বের করে তাঁকে এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ভিডিওটি রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে ওই তরুণীর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে তাঁর বাড়ির লোকেরা।

এদিকে এই খুনের ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার হরিয়ানার মেওয়াটের বাসিন্দা তৌসিফ নামের একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকিরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান নিকিতা হত্যাকান্ডে এই তৌসিফ-ই হল মূল হোতা।

এদিকে মৃতার পরিবারের তরফে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, নিকিতাকে কলেজের বাইরে উত্যক্ত করা এবং তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিলো। অপহরণে বাঁধা পেয়ে তাঁকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হয়েছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

জানা গিয়েছে, এর আগেও ২০১৮ সালে অভিযুক্ত তৌসিফের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিলো। সেই সময়ের মতো বিষয়টি মিটে যাওয়ায় নিকিতার পরিবারের তরফে তৌসিফের বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে মৃতার মা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের কাছে। এমনকি যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁর মেয়ের খুনীদের এনকাউন্টার করে মারা হচ্ছে তাঁরা ততততক্ষণ মেয়ের দেহ সৎকার করবেন না বলেও জানিয়েছেন।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃতা তরুণী এবং মূল অভিযুক্ত একে অপরের পরিচিত। তাঁরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।