সুভীক কুন্ডু: ‘আক্রমণ ম্যাচ জেতাবে, রক্ষণ এনে দেবে ট্রফি’

‘ফুটবল ভুলের খেলা, যে দল কম ভুল করবে সেই দলই চ্যাম্পিয়ন’

প্রথমটা বলেছিলেন স্যার অ্যালেক্সে ফার্গুসন৷ আর দ্বিতীয়টা নেদারল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার জোহান ক্রুয়েফ৷ সেন্ট পিটার্সবার্গের মেগা সেমিফাইনালে পোগবা-উমতিতিরা এই মন্ত্র শুনেই মাঠে নেমেছিল কিনা জানা নেই৷ তবে এই দুই মূলমন্ত্রকে বাস্তবে কাজে লাগিয়ে লুজনিকির ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নিল ফ্রান্সের এগোরো যোদ্ধা৷

ব্রাজিল ম্যাচে বেলজিয়ামের চোখ ধাঁধানো গতি এদিন উধাও৷ বক্সের বাইরে ডি ব্রুইনি, হ্যাজার্ডদের জায়গা দিয়েই বিপদ ডেকে এনেছিল সেলেকাওরা৷ সেমিফাইনালে এদিন সেই ভুলটা করল না ফ্রান্স৷ কিংবদন্তি ক্রুয়েফ তো বলেই গিয়েছিলেন, ‘যে দল কম ভুল করবে সেই দলই চ্যাম্পিয়ন’৷ সেটাই মাঠে যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেল দেশঁ’র ছাত্ররা৷

ব্রাজিলের রক্ষণ চিড়ে কোয়ার্টারে ডি ব্রুইনি’র গোল৷ সেমিফাইনালে অবশ্য ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রক্ষণের ফাঁক ফোকর পেলেন না বেলজিয়াম তারকা৷ আঁটোসাঁটো রক্ষণের সামনে আটকে যেতে হয় তাঁকে৷

রক্ষণে জোর বাড়াতে গিয়ে বল পজিসনে পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচ জিততে অসুবিধে হল না ফ্রান্সের৷ রক্ষণ সামলে তবেই আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় জিরুড-এমবাপেরা৷ নেইমার-কুটিনহোদের হারের ভিডিও নিয়ে দেশঁ’র দলে যে কাটাছেঁড়া হয়েছে তা গ্রিজমানদের খেলাতেই স্পষ্ট৷ ব্লু-প্রিন্টে কোনও রকম খামতি রাখেননি ফ্রান্সের কোচ দেশঁ৷ পরিসংখ্যান বলছে টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত চারটি গোল হজম হয়েছে ফ্রান্স৷ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল পোনাল্টিতে আর গ্রিজমানরা বাকি তিনটি গোল খেয়েছে আর্জেন্তিনা ম্যাচে৷ আক্রমণ ও ডিফেন্সের মিশেলেই পুতিনের দেশে ফুল ফোটাচ্ছে দেশঁ’র ছেলেরা৷ কুড়ি বছর আগে এই দেশঁ’র নেতৃত্বে ঘরের মাঠে প্রথমবারের জন্য সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখেছিল ফরাসীব্রিগেড৷ কোচ হিসেবে এবার দেশকে ট্রফি উপহার দিয়ে বৃত্ত পূর্ণ করতে চান দেশঁ৷

অন্যদিকে সেমিফাইনালে চার স্ট্রাইকারকে নিয়ে মাতামাতির মাঝে আলো কাড়লেন উমতিতি৷ সেমির ডুয়েলের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল এমবাপে, গ্রিজমান, হ্যাজার্ড-লুকাকুরা৷ চার তারকার মাঝে একটা হেডেই বাজিমাত উমতিতির৷ দুই দলের ২১ শটের মধ্যে উমতিতির একটি হেডেই এদিন ম্যাচের ফয়সলা করে দিল৷ সাদে কী আর ফার্গুসন বলেছিলেন, ‘আক্রমণ ম্যাচ জেতাবে, রক্ষণ এনে দেবে ট্রফি৷’

এদিন ফ্রান্সের রক্ষণই তো ব্রুইনি-লুকাকুদের বক্সের বাইরেই আছড়ে ফেলল৷ দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাজার্ড আছড়ে পড়লেন জিরুদের কড়া ট্যাকেলে৷ যে বেলজিয়ামের গতিতে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছিল ব্রাজিলের রক্ষণ, সেই ‘ডার্ক হর্স’দেরই এদিন  ডিফেন্স অস্ত্রে ভোঁতা করে রাখল ফ্রান্স৷ বার কয়েক যেকটা আক্রমণ এসেছিল ফরাসি পোস্টে, কাপ্তান লরিস দস্তানা হাতে একাই সেসব সামলে নিলেন৷ নিটফল ট্রফি থেকে আর মাত্র এক কদম দূরে ফ্রান্স৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.