স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত : ফারাক্কায় সেতু ভাঙার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার বারাসত আদালতে পুরনো একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে ফারাক্কায় ব্রিজ ভাঙার পূর্নাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিন তিনি বলেন “এই ঘটনায় মানুষ মারা গেছে। সেটাই বড় কথা। এত মানুষের মৃত্যুর কারন জানতে তদন্ত জরুরি। কি কারনে এরকম ঘটনা তার তদন্ত হবে। এত বড় কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কিভাবে এটা ঘটল তা জানা জরুরি।”

শুধু তাই নয়, রাজ্যে একের পর এক ব্রিজ ভাঙা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাপের ঘরা ভরে গেছে। তাই এই রাজ্যে একের পর এক ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। যাদের মাথায় কাটমানি ঘোরে তারাই কাটমানির কথা বলছে। আমরা চাইছি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”

পাশাপাশি, শাহিন বাগ ও পার্ক সার্কাসের আন্দোলনকে তীব্র কটাক্ষও করেন তিনি। এদিন আদালতে হাজিরা দিতে এসে তিনি বলেন, ”দিল্লীতে ভোট মিটেছে। এবার রাস্তা ছাড়ার জন্য পথ খুঁজতেও অমিত শাহের বাড়ি যাচ্ছে ওরা। পার্ক সার্কাসও একই কাজ করছে। তাই আমি আবারও বলছি কিছু অশিক্ষিত মানুষকে বিরিয়ানি খাইয়ে রাস্তায় বসানো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দ্বিতীয় ফারাক্কা সেতুর একটি স্তম্ভের উপর গার্ডার লাগানোর কাজ চলছিল। কাজ করার সময় হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে। ফলে ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান কর্মরত শ্রমিক এবং বেশ কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার। মৃত্যু হয় প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শ্রীনিবাস, ট্রেনি ইঞ্জিনিয়ার শচীন প্রসাদ-সহ তিনজনের। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও পাঁচজন। বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এছাড়াও এদিন বারাসত বিশেষ আদালতে পুরনো মামলায় হাজিরা দিতে আসেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু এবং বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেকেই ফারাক্কায় সেতু ভাঙার ঘটনার যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেন। এবং একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।