নয়াদিল্লি: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নয়া কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীকেই পুনর্বহাল রাখল ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি। কোচ হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল বিশ্বকাপের পরেই। কিন্তু ৪৫ দিনের এক্সটেনশন পিরিয়ডে ক্যারিবিয়ান সফরে কোচ হিসেবে শাস্ত্রীকেই পাঠানো হয়। যদিও একইসঙ্গে কোহলিদের নতুন কোচ বাছতে তৎপর হয়ে ওঠে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ২০১৯ বিশ্বকাপেও শাস্ত্রীর কোচিংয়ে সেমিফাইনালে পদস্খলন। বিরাটদের পরবর্তী কোচ হিসেবে তাই দেশের অনুরাগীরা খুঁজে ফিরছিলেন নতুন মুখ। অটোমেটিক চয়েস হিসেবে শাস্ত্রী পুনরায় কোচের দৌড়ে চলে এলেও তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ হয় আরও পাঁচটি নাম। সে তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন, অস্ট্রেলিয়ার টম মুডি, জাতীয় দলে শাস্ত্রীর একদা সতীর্থ রবিন সিং ও লালচাঁদ রাজপুত। শেষমুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান কোচ ফিল সিমন্স।

আরও পড়ুন: ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে বিশেষ দায়িত্বে লারা-সারওয়ান

বাকি কোচ পদপ্রার্থীরা ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির সামনে সশরীরে এসে ইন্টারভিউ দিলেও শাস্ত্রী ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে স্কাইপির মাধ্যমে ইন্টারভিউ দেন শুক্রবার। এরপর সন্ধ্যার দিকে চতুর্থ দফায় ফের ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে শাস্ত্রী মনোনীত হতেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া ভেসে আসতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, এর আগে তিন দফায় ভারতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন শাস্ত্রী। ২০০৭ বাংলাদেশ সফরে দলের ম্যানেজার হিসেবে, ২০১৪-১৬ টিম ডিরেক্টর হিসেবে, ২০১৭-১৯ প্রধান কোচ হিসেবে। এরপর শুক্রবার ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচের পদে শাস্ত্রী পুনর্বহাল হতেই হতাশা ছুঁড়ে দেন ক্রিকেট অনুরাগীরা।

আরও পড়ুন: বাজিগর ও বাজিগর…গানে নেচে বাজিমাত আর্জেন্তাইন ফুটবলারের

কপিল দেব, শান্তা রঙ্গস্বামী ও অংশুমান গায়কোয়াডের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি শুক্রবার কোচ নির্বাচনের পর শাস্ত্রীর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, কোচিংয়ের দর্শন- অভিজ্ঞতা- অ্যাচিভমেন্ট- আধুনিক কোচিংয়ের বিভিন্ন টুল সম্বন্ধে ধারণা সব বিষয়েই বাকিদের পিছনে ফেলেছেন শাস্ত্রী। তবে নেটিজেনরা মোটেই এইসব যুক্তি মানতে নারাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা।

 

কেউ লিখেছেন, ‘ভারতীয় দলের জন্য খারাপ খবর। আগামী তিন-চার বছর অফিসিয়ালি তারা কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট জিততে পারব না।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘বাকি দলগুলোর সামনে দারুণ সুযোগ। আইসিসি’র কোনও টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের দৌড় ফের সেমিফাইনালে গিয়েই থেমে যাবে।’ মজার ছলে আবার কেউ কেউ লিখলেন, ‘শাস্ত্রীর উপর ‘বিরাট’ কৃপা বজায় রইল।’