সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : এখনও ইলিশ মাছ নেই। তবে ইলিশ মাছ এবারে ভালোই পাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী মহল। সৌজন্যে ফণী ঘূর্ণিঝড়। ফণী যেমন জ্বলীয় বাস্প টেনে নিয়ে নিয়েছে তেমনই সে তাণ্ডব চালিয়েছে সাগরে। এর ফলে মাছ সমুদ্রের গভীরে ঢুকে থাকতে পারবে না। জলের ক্রমাগত ওলটপালট হওয়ার ফলে তা গভীর সমুদ্রের নীচে থেকে উপর দিকে উঠে আসবেই বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য অতুল দাস বলেন , “এখনও বর্ষা দেরী হয়েছে তাই ১৫ তারিখের পরে আমরা ট্রলার নিয়ে গিয়েও মাছ পাইনি। যা পেয়েছি তা বলার মতো নয়। না পাওয়ারই সমান। কিন্তু বৃষ্টি হলেই মাছ মোহনার দিকে এগোবে তখন মাছ পাব। শুধু একটু বৃষ্টির অপেক্ষা।” মাছ কম মিলবে নাকি বেশি ? এই প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি যথেষ্ট আশাব্যাঞ্জক। তিনি বলেন , “জলে যত ঢেউ খেলবে তত বেশি মাছ গভীর সমুদ্র থেকে উঠে আসবে উপরের দিকে। সেটা হবার সম্ভাবনা আছে। কারণ এবারে বর্ষা আশার আগে সাগ্রে ঘূর্ণিঝড় ফণী হয়েছে। সেটার জন্যই আমরা আরও আশাবাদী যে মাছ বাঙালির পাতে ভালো পরিমানেই আমরা পৌঁছে দিতে পারব।”

তবে দুঃখের কথা হল , “মাছের ওজন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম হবে। বড় মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কারণ বড় মাছ পাওয়া যায় বাংলাদেশে। সেখানেও এখন তারাতারি মাছ তুলে নেওয়ার জন্য বড় মাছ পাওয়া যায় না। তো ভারতের জলপথে তা আরও পাওয়া সম্ভব নয়। যে বড় মাছ আমরা পাই তার পরিমাণ খুবই কম। ব্যতিক্রম বললে ভুল হবে না। কেউ যদি এখন অনেক বড় ইলিশ পেয়েছে বলে তাহলে জানবেন ওগুলো গত মরসুমের মাছ। যার স্বাদ বলে আর কিছু নেই।”

এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পক্ষে আশার খবর যে উত্তর ২৪ পরগণা , দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, মেদিনিপুর, হাওড়া, হুগলী, শুক্রবারেই বর্ষা প্রবেশ করছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবেশ করবে বর্ষা। ফলে ইলিশের মরসুম যে একেবারেই সামনে এবং সেটা যে ভালো হতে চলেছে তা বলা যেতেই পারে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব