প্রতীকী ছবি

পুরী কি লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে ? জানি না৷ ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ও সৈকত শহর থেকে বলছি-ফোনটা কেটে গেল প্রাক্তন চিত্র সাংবাদিক নারায়ণ চৌধুরীর৷ এর আগে তাঁর বয়ানের প্রতিবেদন কলকাতা ২৪ এর ওয়েবে পেজে পড়েছেন বহু পাঠক৷ আঁচ করেছেন কী ভয়ানক তাণ্ডব রূপ নিয়ে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ফণী আসছে৷ আজ যখন সেই ঝড় সত্যি করেই ঢুকে গেল ভারতের মাটিতে তখন পুরীর অবস্থা তথৈবচ৷

নারায়ণ চৌধুরী: ( GMPR,সানি বিজয় ইন্টারন্যাশনাল)

ফোনটা আবার পাওয়া গেল৷
হ্যালো কেমন আছো, কী অবস্থা?
খুব খারাপ পরিস্থিতি৷ ঝড়ে উড়ে যাওয়ার আগে অন্ধকার বাথরুমে ঢুকে গেলাম৷ বুঝছি হোটেলের একটার পর একটা অংশ ভাঙছে৷ আমাদের হোটেলের বিরাট বিরাট কাঁচের জানালা গুলো ভেঙে পড়ছে৷ কিছু দূরেই উত্তাল সাগর৷ মনে হয় সেই সাগরেই তলিয়ে যাবে পুরো শহরটা৷ সকালেই গার্ড ওয়াল ভেঙে গিয়েছে৷ পুরী অসহায়-আগেই বিদ্যুৎহীন পুরো শহর৷

ফোনের ওপার থাকা গলায় একটা ভয়ের ইঙ্গিত৷
হ্যালো হ্যালো শুনতে পাচ্ছ..
পাচ্ছি- ক্যামেরার ফোকাস করতে পাচ্ছি না৷ ঝাপসা না স্পষ্ট কী ছবি উঠছে সেটা দেখারও সময় নেই৷ শুধু জানি শাটার টিপে যাব৷
ফোনটা একেবারেই কেটে গেল৷

শেষ খবর যা এসেছে, তাতে ফণী ঢুকে পড়েছে ওডিশার অপর সৈকত শহর গোপালপুরে৷ এর প্রভাবে ১৭৫-১৮০ কিলোমিটার গতি নিয়ে পুরীর উপর দিয়ে বয়ে চলেছে ঝড়৷ লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে শহরের জনজীবন৷ তবে আগে থেকে নিরাপদ দূরত্বে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবুও আশঙ্কা থাকছে প্রবল ক্ষয় ক্ষতির৷

ফোনটা আর লাগল না৷ পুরীর ভয়টা কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ল৷