ব্যাংকক: সবাইকে দুঃখ দিয়েই চলে গেল সুইটহার্ট ডুগং ছানা। মাস আটেক বয়স হয়েছিল তার। সম্প্রতি তাকে থাইল্যান্ডের উপকূলে অসুস্থ অবস্থায় জলে ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তার নাম রাখা হয় মরিয়ম।

বিবিসি জানাচ্ছে, মজাদার মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে মিলছে প্লাস্টিকের নমুনা। মনে করা হচ্ছে, সমুদ্রে একলা ভেসে বেড়ানোর সময় ওই প্লাস্টিক খেয়ে নিয়েছিল প্রাণীটা। সেই খবর ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে।

মরিয়ম নামে ডুগংটির মৃত্যুর কারণ প্লাস্টিক উঠে আসায় জীববিজ্ঞানীরা চিন্তিত। এতে প্রমাণ হচ্ছে সমুদ্র ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণের কবলে পড়ছে।

ডুগং হল সামুদ্রিক প্রাণী৷ এর বাংলা নাম সমুদ্রধেনু৷ আর মালয় ভাষায় এর নামের অর্থ ‘সমুদ্রের ভদ্রমহিলা’৷ বিলুপ্তপ্রায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকায় এরা পড়ে। ভারত মহাসাগর অঞ্চল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশ পর্যন্ত অঞ্চলে এদের দেখা মেলে।

নিরীহ প্রকৃতির থলথলে এই প্রাণীটি শাকাহারি৷ সবথেকে বেশি ডুগং থাকে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে, মান্নার উপসাগর এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অবস্থিত পক প্রণালীতে৷ এরা দিনে ২৫-৩০ কেজি সামুদ্রিক ঘাস খেতে পারে।

সেরকমই ডুগং ছানা থাইল্যান্ডের দক্ষিণে কার্বি প্রদেশ সংলগ্ন উপকূলে ও একলাই ভেসে চলছিল৷ জলে নেমে তাকে ধরতে পারেন উদ্ধারকারীরা৷ কোনওরকমে ওকে আঁকড়ে ধরে তীরে আনা হয়৷ জলের তলার সেই দৃশ্য দেখে চমকে যান বিশ্ববাসী। তার পরেই হই হই পড়ে যায় সর্বত্র। ডুগংটিকে কোনওরকমে রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এতদিন সেখানেই ছিল সেটি।

অসুস্থতা কাটছিল না তার। মারা যেতেই উদ্ধারকারীদের মধ্যে শোক নেমেছে।

থাইলান্ডস ডিপার্টমেন্ট অফ মেরিন অ্যান্ড কোস্টাল রেসকিউ (Thailand’s Department of Marine and Coastal Resources)৷ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হল এদের বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাওয়া।

অত্যধিক নৌকো চলাচল, কৃষিক্ষেত্র থেকে বিষাক্ত কীটনাশক সমুদ্রের জলে মেশা, উপগ্রহের সাহায্যে এই ঘাসের উৎসস্থল গুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। ভারত মহাসাগর, আন্দামান ও নিকোবর, শ্রীলঙ্কার উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলে অত্যধিক মাছ ধরাও এদের পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। কচ্ছ উপসাগরে ডুগং–এর তেল নৌকা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এদের মাংসেরও ওষধি গুণ আছে বলে বিশ্বাস। এদের জন্মহার কম হওয়া এদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার আরেকটি কারণ। ডুগংদের বাচ্চা হয় প্রতি সাত বছর অন্তর অন্তর৷ যে কারণে এক একটি বাচ্চা এত মূল্যবান৷