ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, যে সব অফিসাররা মামলায় অন্তর্ভূক্ত তাঁরা কেউ গ্রেফতার হলেন না৷ কিন্তু আপনি শেষ সইটি করেছেন বলেই গ্রেফতার হলেন? আমি কোনও উত্তর দিতে পারি না৷ টুইট করে জানালেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম৷ তিহাডর জেলবন্দী চিদাম্বরম কীভাবে টুইট করছেন যারা ভাবছেন, তাদের জন্য টুইটের প্রথমেই একটি লাইন ছেড়ে রেখেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷ তিনি লিখেছেন, আমি আমার পরিবারকে আমার পক্ষ থেকে টুইট করতে বলেছি৷ পরে অবশ্য নিজের টুইটে একটি মন্তব্যও লিখেছেন তিনি৷ বলেছেন, কোনও অফিসার ভুল করেননি৷ আমি চাই না কেউ গ্রেফতার হোক৷

তিহারে জেল নম্বর ৭, ওয়ার্ড নম্বর ২, সেল নম্বর ১৫-ই এখন পি চিদাম্বরমের বর্তমান ঠিকানা। আইএনএক্স মিডিয়া কেস-এ সিবিআই গ্রেফতার করেছে চিদাম্বরমকে৷ জেলে তার প্রতিবেশি জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীনেতা ইয়াসিন মালিক৷ প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জোর আলোচনা শুরু হয়ে যায়, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সব থেকে আক্রমণত্মক কন্ঠকেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই৷ একসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে অমিত শাহ’র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল চিদাম্বরম৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তা সুদে-আসলে ফিরিয়ে দিয়েছেন শাহ৷

অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেফতার হন চিদাম্বরম৷ মূল অভিযোগ, আই এন এক্স মিডিয়া মামলা। এই মামলাতে মূল অভিযুক্ত চিদাম্বরাম এবং তাঁর পুত্র কার্তি। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নিজের গ্রেফতারি বাঁচাতে ড্রাইভার এবং আপ্তসহায়ককে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রী পি চিদাম্বরাম। এরপর কংগ্রেস সদর দফতরে তিনি দেখা দেন। খবর পান, সেখানেও সিবিআই হানা দিয়েছে। কংগ্রেস দফতর থেকেও পালন তিনি। কংগ্রেস দফতর থেকে তাঁদের কোনও নেতা সিবিআইয়ের ভয়ে এইভাবে পালিয়েছেন, একথা অনেক বয়স্ক কংগ্রেস নেতা মনে করতে পারেন না৷

কী এই আইএনএক্স মামলা? পিটার এবং ইন্দ্রানী মুখার্জির (খুনের মামলায় বিচারাধীন দুজনেই এখন জেলে) মালিকানাধীন আইএনএক্স মিডিয়া ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড ( এফআইপিবি) এর মাধ্যমে মরিসাসের দুই নাগরিকের থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সুযোগ পায়। ৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু, আইএনএক্সের-ই অন্য একটি সংস্থা আইএনএক্স নিউজ প্রাইভেট লিমিটেড কে এফডিআই-এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ টানার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু,অভিযোগ, নির্দেশের তোয়াক্কা না করে আইএনএক্স বিদেশি সংস্থার থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করে এবং তাদের নিজের শেয়ারও বিক্রি করে। মামলা করে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।

চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ২০০৭ সালে চিদাম্বরাম অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় এফইপিবি-এর মাথায় বসে তিনি আইএনএক্স-কে বেআইনি কাজকর্ম করতে দিয়েছিলেন। আইএনএক্স মালকিন ইন্দ্রানী মুখার্জি সিবিআই জেরার মুখে স্বীকার করেছিলেন , ২০০৮ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি আইএনএক্স মিডিয়ার জন্য সেরা ‘ডিল’ করতে পেরেছিলেন। সিবিআই অভিযোগে জানিয়েছে, আইএনএক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত করার বিকল্পে চিদাম্বরম তাদের এফডিআই-এর জন্য পুনরায় আবেদন করতে বলেন। দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি চিদাম্বরমকে অন্তর্বর্তী জামিন দিতে অস্বীকার করে। কোর্ট বলে, চিদাম্বরাম-ই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। তার পর সব আশা জলে যায় ইউপিএ-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির।