সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: লজ্জা! কথা ছিল গোষ্ঠ পালের স্মারক-পুরস্কারগুলি সংরক্ষণের জন্য মোহনবাগান ক্লাবের উদ্যেগে তৈরি হবে মিউজিয়াম৷ সেই প্রতিশ্রুতিতেই ১৯৯২ সালে পদ্মশ্রী-সহ গোষ্ঠ পালের সমস্ত পদক এবং দুষ্প্রাপ্য বেশ কিছু ছবি এবং সব ট্রফি ক্লাবের হাতে তুলে দিয়েছিল কিংবদন্তি ফুটবলারের পরিবার৷  ২৭ বছরেও সেই মিউজিয়ামের কোনও ভবিষ্যত নেই৷ শেষ পর্যন্ত কথা রাখতে পারেনি মোহনবাগান৷ অনেক অনুরোধে দীর্ঘ খোঁজাখুজির পর গোষ্ঠ পালের যাবতীয় পুরস্কার পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দিল ক্লাব৷

আরও পড়ুন-অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে গোষ্ঠ পালের পুরস্কার কুক্ষিগত করার অভিযোগ

ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিকা মিলিয়ে গোষ্ঠ পালের সংরক্ষিত পুরস্কারগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷  তবে ফেরত পাওয়া পুরস্কার গুলির মধ্যে অবশ্য অনেক পুরস্কারেরই হদিশ নেই৷ গোষ্ঠ পালের পদ্মশ্রী পদক ফিরে পেল না পরিবার৷ সব মিলিয়ে গোষ্ঠ পালের স্মৃতিবিজড়িত সাতটি সামগ্রীর হতিশ দিতে পারছে না ক্লাব৷ সামগ্রীগুলি ভবিষ্যতে খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মোহনবাগান৷ এদিকে খুঁজে না পাওয়া সাতটি সামগ্রী কবে ফেরত পাবেন গোষ্ঠ পালের পরিবার তা নিয়েই চলছে চর্চা৷

অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে গোষ্ঠ পালের পুরস্কার কুক্ষিগত করার অভিযোগ

অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে গোষ্ঠ পালের পুরস্কার কুক্ষিগত করার অভিযোগবিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://bit.ly/2C27KeX

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले सोमवार, २५ फेब्रुवारी, २०१९

আরও পড়ুন- গোষ্ঠ পালের পদ্মশ্রী ‘ভ্যানিশ’, মোহনবাগানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

কিংবদন্তি ফুটবলার গোষ্ঠ পালের ইচ্ছাপূরণ করতেই ১৯৯২ সালে পদ্মশ্রী-সহ তাঁর সমস্ত পদক এবং দুষ্প্রাপ্য বেশ কিছু ছবি এবং সব ট্রফি ক্লাবের হাতে তুলে দিয়েছিল পরিবার৷ ক্লাবের পক্ষ থেকে মিউজিয়ামের মাধ্যমে গোষ্ঠ পালের সেই স্মৃতিগুলি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলছিল সেসময়৷

২৭ বছর কেটে গেলেও তৈরি হয়নি সেই মিউজিয়াম৷ সেই অভিযোগ এনেই পদ্মশ্রী-সহ গোষ্ঠ পালের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন ট্রফি ও পুরস্কার ফেরত চায় পরিবার৷ পুরস্কারগুলি ফেরত পেতে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট গীতানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখেছিলেন গোষ্ঠ পাল পুত্র নীরাংশু পাল৷ সেই চিঠির পরই মোহনবাগানের টনক নড়ে৷

বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম হলেও মোহনবাগান অন্তপ্রাণ ছিলেন গোষ্ঠ পাল৷ মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯১২ সালে মোহনবাগানে সই করেন৷ খেলে গিয়েছেন ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত৷ টানা ২৪ বছর ঘটিদের ক্লাবে খেলার মাঝেই ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া প্রচুর টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বিনা দ্বিধায়৷ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইংরেজদের দেওয়া চৌধুরি পদবিও৷

মোহনবাগানের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবল দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন গোষ্ঠ পাল৷ দুরন্ত ডিফেন্সের জন্য ‘চিনের প্রাচীর’ ডাক নাম ছিল তাঁর৷ ১৯৬২ সালে ভারতের প্রথম ফুটবলার হিসেবে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন গোষ্ঠ পাল। ধুতি-পঞ্জাবি পরেই রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তাঁর নামে চালু হয় ডাক-টিকিটও৷