মানব গুহ, পুরুলিয়া: দোষ করল কে আর ফল ভোগ করছে কে ! পুরুলিয়ার কন্যাশিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সনাতনের বাড়ির ভেতর ঢুকছে না গৃহশিক্ষক থেকে শুরু করে পুরোহিত কেউই৷ দাদুর দোষে পড়াশোনা শিকেয় নাতি নাতনিদের৷ বন্ধ মা কালির পুজো৷ এদিকে, কন্যাশিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলায় শুক্রবারই পুরুলিয়া জেলা আদালতে গোপন জবানবন্দী দিল মামলায় মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের দুই পুত্রবধূ ও একজন প্রতিবেশি৷

আরও পড়ুন শরীরের খিদে মেটাতে সন্তানকেও ব্যবহার করল এক নৃশংস নোংরা মা

গৃহশিক্ষক থেকে শুরু করে পুরোহিত, কেউ বাড়িতে ঢুকছেন না৷ প্রায় একঘরেই বলা যায়, পুরুলিয়ার নদীয়াড়া গ্রামের ঠাকুর পরিবার৷ কারণ, পৃথিবীর অন্যতম জঘন্য একটি কান্ড ঘটিয়েছে তাদের পরিবারেরই মাথা৷ গৃহশিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ অভিযুক্ত সনাতনের ৮ নাতি নাতনির৷ সনাতনের দুই ছেলে, জীতেন ঠাকুর ও লক্ষণ ঠাকুর৷ বড় ছেলে জীতেনের ৫ সন্তানের মধ্যে ১ ছেলে ৪ মেয়ে৷ ছোট লক্ষণের ১ ছেলে ২ মেয়ে৷ ৮ জনের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে৷ দাদুর কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসায় আর পড়াতে আসছেন না তাদের গৃহশিক্ষক৷ সবার পড়াশোনা শিকেয়৷

আরও পড়ুন শিশুকন্যা নির্যাতন-হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সনাতনের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত

পুজো পাচ্ছেন না মা কালি, বজরংবলী হনুমানজী ও অন্যান্য দেবদেবীরাও৷ কারণ, গৃহশিক্ষকের মত ঠাকুর বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁসছেন না কোন পুরোহিতও৷ বামুনের অভাবে সনাতনের পাপে, ঠাকুর বাড়ির ঠাকুররা আপাতত: পুজোহীন৷ পাড়ার যে সমস্ত মহিলারাও একসময় আসতেন ঠাকুর বাড়ির দুই বউ রিনি ও রিঙ্কির সঙ্গে দুপুরের আড্ডা দিতে, তারাও এখন ভুলেছেন ঠাকুর বাড়ির পথ৷ জীতেন আর লক্ষণের বন্ধুদেরও আর দেখা যায় না এই বাড়িতে৷ লজ্জা ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়েছেন সবাই৷ বাইরে বেরলেও কৌতুহলী প্রশ্নের ঝড়৷ সবাই জানতে চায়, সাত সূচের গপ্প৷

আরও পড়ুন কলকাতা 24×7-এর খবরের জের: পুরুলিয়ার সূচবিদ্ধ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার মা

পাড়ার দোকানে গেলেও দোকানীর ব্যঙ্গাত্বক ভাবভঙ্গীতে অস্বত্বিতে জীতেন, লক্ষণ, রিনি, রিঙ্কিরা৷ গোটা পরিবারকে এইভাবে লজ্জার অন্ধকারে ডুবিয়ে, পথে বসিয়ে জেলে বসে কীর্তন গাইছে সনাতন৷ ৮ নাতি নাতনী বুঝতে পারছে তাদের দাদু কিছু একটা কান্ড ঘটিয়েছে৷ কিন্তু তাদের দাদু কি ঘটিয়েছে সেটা বোঝার মত বয়স তাদের এখনও হয় নি৷ কিন্তু সেই বয়সেই আর একজন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছে তাদেরই দাদুর নির্মম অত্যাচারের কারণে৷

আরও পড়ুন শরীরে সূচ ঢুকিয়ে শিশু নির্যাতন পৃথিবীতেই বিরল বলছেন চিকিৎসকরা

এদিকে শুক্রবার, পুরুলিয়া আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজেদের গোপন জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেন সনাতনের ছোট পুত্রবধূ রিনা ঠাকুর ও বড় পুত্রবধূ রিঙ্কি ঠাকুর৷ নিজের গোপন জবানবন্দী দেন তাদের প্রতিবেশি পাগলচন্দ্র রায়ও৷ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদের প্রত্যেকের বয়ানেই সনাতনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে৷

আরও পড়ুন এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু পুরুলিয়ার সূচবিদ্ধ শিশুর

দস্যু রত্নাকরের পাপের ভাগ নিতে চান নি পরিবারের কেউই, তার জন্যই পাপের রাস্তা ছেড়ে দস্যু রত্নাকর থেকে মহাকবি বাল্মিকির জন্ম হয়৷ একটি ছোট্ট শিশুর শরীরে সাত সাতটি সূচ ঢুকিয়ে যৌন নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেললেও এখনও কোন অনুশোচনা নেই অভিযুক্ত সনাতনের৷ তার কীর্তন সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল৷ উল্টে তার পাপের শাস্তি পেতে হচ্ছে তার পরিবারকে৷ পাপীর জঘন্য অত্যাচারে পৃথিবী ছেড়েছে একটি ছোট্ট বাচ্চা৷ আর সেই পাপেরই প্রায়শ্চিত্ত করছে একটি পরিবার ও আরও ৮ টি ছোট্ট শিশু৷ এ যুগের রত্নাকররা বাল্মিকি হন না৷