ছবি: প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সালিশি সভার নিদানের প্রতিবাদ করে একঘরে পরিবার৷ নদিয়ার পলাশির ঘটনা৷ সালিশি সভার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ওই গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস শেখ। তারপর থেকেই তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ৷

এক মহিলার সঙ্গে ইলিয়াসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল৷ মহিলার অতীত সম্পর্কে জানতেন না বলে দাবি ইলিয়াসের৷ পরে তিনি জানতে পারেন ওই মহিলার স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছে আগেই৷ তারপর থেকেই মেলামেশা কমিয়ে দেন ইলিয়াস৷

বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না বলে ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দেন বলে দাবি ইলিয়াসের৷ ওই মহিলা এরপর গ্রামের মোড়লের কাছে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। ২০১৭ সালের ৯ই জুলাই ২০১৭ সালে ওই মহিলাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে ইলিয়াস বলে অভিযোগ ওঠে৷
পরে গ্রামের মাতব্বরেরা একটি সালিশি সভা ডাকেন। সেই সালিশি সভাতে যুবকের পরিবারের সদস্যদের ডেকে ওই মহিলাকে বিয়ে করতে বলা হয়৷ ইলিয়াস এই বিয়ে করতে অসম্মত হয়৷ পরিবারও তার পাশে দাঁড়ায় বলে জানা গিয়েছে৷ তখন সালিশি সভা সিদ্ধান্ত নেয় ওই মহিলাকে বিয়ে না করলে ৩৫ লাখ টাকা দিতে হবে ইলিয়াসকে৷ সালিশি সভার সিদ্বান্তের প্রতিবাদ করায় ইলিয়াস শেখের ধোপা নাপিত বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি একঘরে করে দেওয়া হয়।

১০ ই আগস্ট কালিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানায় পরিবার৷ জানানো হয় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও৷ পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের শেষে কালিয়াগঞ্জ থানা নদিয়ার জেলাশাসককে রিপোর্ট জমা দেন ।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ মামলাকারী হাতে চার্জশিট পাওয়ার পর দেখেন তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় চার্জশিট হয়নি। মিথ্যা রিপোর্ট নদীয়ার পুলিশ সুপার, ডিএম-কে দিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ করেন মামলাকারীর আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

মঙ্গলবার সরকারি আইনজীবী শান্তনু মিত্রর কাছে এই ঘটনার সত্যতা জানতে চান বিচারপতি। সরকারি আইনজীবী জানান ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিচারপতির প্রশ্ন চার্জশিট জমা দেওয়ার পর আবার কিসের তদন্ত করছে পুলিশ?

তাই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নদিয়ার কালিয়াগঞ্জ থানার ওসি এবং পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকের রিপোর্ট তলব করেন বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।