মানিকচক: প্রথমে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কিশোরীকে কু-প্রস্তাব। সেই প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে থানায় অভিযোগ করায় হামলা চালানো হল কিশোরীর বাড়িতে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার মানিকচক থানা এলাকার এনায়েতপুরের পঁচিশা গ্রামে।

পঁচিশা গ্রামের যুবক রাজকুমার ঘোষ ওই গ্রামেরই এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কিশোরীকে কু-প্রস্তাব দেয়। পালটা ওই কিশোরী প্রতিবাদ করলে শুরু হয় বচসা। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার খবর পেয়ে গ্রামে সালিশি সভা ডাকে অভিযুক্তের পরিবার। সেই সভায় উপস্থিত ছিল না নিগৃহীতআ কিশোরীর পরিবার। তারই জেরে বাড়িতে চড়াও হয়ে সকলকে মারধর। তিনজন মহিলা সহ আটজন আহত অবস্থায় মানিকচক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভরতি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজকুমার প্রতিনিয়ত ওই কিশোরীকে উত্তপ্ত করত। ধীরে ধীরে রাজকুমারের অত্যাচার বাড়তেই থাকে। কিশোরীটি পুরো ঘটনা বাড়িতে জানায়। কিশোরীর বাবা ও কাকারা মিলে রাজকুমারের পরিবারকে এই ব্যাপারে সতর্কও করে একাধিকবার। এমনকি এই ব্যাপারে বেশ কয়েকবার বলার ফলে বচসাও বাঁধে। কিন্তু তাতেও দমেনি রাজকুমার। সে কিশোরীকে কু-প্রস্তাবও দেয়। এরপরই কিশোরীর পরিবারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুরো ঘটনাটি থানার জানানোর। সেইমতো মানিকচক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানানোও হয়। এই সংবাদ রাজকুমারের বাড়িতে পৌছনোর পরেই হুমকি দেওয়া শুরু করে কিশোরীর পরিবারকে। হুমকি দেওয়া হয় লিখিত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সালিশি সভা করে পুরো ঘটনা মিটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় রাজকুমারের পরিবার। সেইমতো বুধবার রাতে বসে সালিশী সভা। সেখানে ওই কিশোরীর পরিবারকেও ডাকা হয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার থানা থেকে লিখিত অভিযোগ তোলার পক্ষপাতী ছিল না। এমনকি তাঁরা সালিশী সভাতেও যেতে রাজী ছিল না। সেইমতো সালিশী সভাতে পৌছয় না তাঁরা। ফলে সালিশী সভা পণ্ড হয়ে যায়।

এরপরই রাজকুমার ঘোষ ও তাঁর পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে কিশোরীর বাড়িতে লাঠি, লোহার রড নিয়ে আক্রমণ চালায়। তিনজন মহিলা সহ আটজন একই পরিবারের আহত হয়। সকলকেই মানিকচক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভরতি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর রাজকুমার সহ পরিবারের সকলেই গ্রাম থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।