এই মুহূর্তে জোমাটো, সুইগি সহ অনলাইন খাবার ডেলিভারি অ্যাপের উপরে নির্ভর করেন বেশীরভাগ মানুষজন। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে বাড়ি ফিরে রান্না না করে টুক করে অর্ডার দিয়ে দিতেই পছন্দ করেন বেশীরভাগ মানুষজন। কিন্তু সেই খাবার ডেলিভারি অ্যাপে ভুয়ো রেস্তোরাঁর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়াতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সাম্প্রতিক কয়েকটা ঘটনা থেকেই যা পরিষ্কার ভাবে বোঝা গিয়েছে।

নতুন বছর উপলক্ষে নয়ডার ১১ বছর বয়সী সাইশা ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক খেতে চেয়ে অর্ডার করেছিল এই সুইগি অ্যাপে। কিন্তু অর্ডার করার আধঘণ্টা পড়ে তার কাছে ফোন করে জানানো হয়েছিল তার অর্ডার করা খাবার কাছাকাছি কোন জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তিনি যেন অর্ডার টি ক্যান্সেল করে দেন।

এই পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল কয়েকমাস আগেই সুইগি-তে রাতের খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল কোনও রেস্তোরাঁ খোলা না থাকার কারণে ডেলিভারি বয় তাঁদের বাড়িতে খাবার দিতে যেতে পারছেন না। তাই অর্ডার টি যেন ক্যান্সেল করে দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যদি রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে তাহলে কিভাবে ডেলিভারি বয় খাবার নির্দিষ্ট জায়গাতে পৌঁছে দেবে। আর এই নিয়ে রীতিমত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন।

কেবলমাত্র সুইগি একাই নয়। এক দম্পতি জোমাটোতে খান মার্কেটের এক দোকান থেকে দুপুরের খাবারের অর্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু ফোন করে জানানো হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই ওই দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কিভাবে এই ধরণের ভুয়ো দোকানগুলি ব্যবসা করে চলেছে।

এমনিতেই এই মুহূর্তে খুব দ্রুত ব্যবসা করে চলেছে এই সকল অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ৷ সাধারণ মানুষের কাছে খুব দ্রুত নিজেদের একটা জায়গা বানিয়ে নিয়েছে। যার ফলে এখন রান্না করার থেকে হাতের কাছে এই অ্যাপে খাবার অর্ডার দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে নতুন বছরে নিজেদের ব্যবসার প্রভাব আরও বিস্তার করবে এই ফুড ডেলিভারী অ্যাপগুলি। কিন্তু তার আগে এই ধরণের বিষয় সামনে আসাতে রীতিমত অস্বস্তিতে রয়েছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সুইগির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন তাদের এক বিশেষ দল রয়েছে যারা এই সকল বিষয়গুলি খেয়াল রাখেন। কোন রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কাদের খাবারের গুণমান ঠিক নেই তা আলাদা লোকেরা পর্যবেক্ষণ করেন।

এছাড়াও জানিয়েছেন কোন ক্রেতার থেকে কোন রকম অভিযোগ পেলেই তাঁরা দ্রুত সেই বিষয়টি দেখেন এবং তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই মুহূর্তে যে হারে ভুয়ো রেস্তোরার হার বেড়ে চলেছে তাতে ধীরে ধীরে প্রভাব পরতে চলেছে ক্রেতাদের মধ্যেও। এমনটা মনে করছেন অনেকেই।