প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: চিকিৎসার নামে ভণ্ডামি। নিজেকে ভালো ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন গ্রামের অসহায় মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে টাকা খেয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। অবশেষে স্থানীয় মানুষের বুদ্ধিমত্তায় জালে ধরা পড়লেন ওই কীর্তিমান ভুয়ো ডাক্তারবাবু।

এই ভুয়ো চিকিৎসকের কারবারির ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মালদহ জেলার বাংলা বিহার সীমান্ত লাগোয়া হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভুয়ো ডাক্তারের রমরমা। কোনও রকম এমবিবিএস পাস ছাড়াই ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে দিনের পর দিন নিজেদের নাম ভাঁড়িয়ে এলাকার অসুস্থ গরীব মানুষদের চিকিৎসা করে যাচ্ছে এই সব ভুয়ো ডাক্তাররা। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর এই সব ডাক্তারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র দশম শ্রেনি পর্যন্ত। তাতে কি গ্রামে বেশিরভাগ মানুষ অল্প শিক্ষিত হওয়ায় এই সুযোগকে দিব্যি কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার নামে গ্রামের গরীব মানুষ গুলোর কাছ থেকে টাকা খেয়ে আসছিল দিনের পর দিন ধরে।

গ্রামবাসীরা আরও জানিয়েছে, দশম শ্রেনি পাস করেই নেমপ্লেটে জেনারেল ফিজিশিয়ান লিখে দিনের-পর-দিন চিকিৎসা করে যাচ্ছে ওই সব ভুয়ো চিকিৎসকরা। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক। সূত্রের খবর বিষয়টি নিয়ে আগে অনেকবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

সূত্রের খবর, ধৃত ওই ভুয়ো চিকিৎসকের নাম মহম্মদ নাদিম। এক সময় বিহারে থাকলেও বর্তমানে সে মালদার বাংলা বিহার সীমান্ত লাগোয়া হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, ভুয়ো চিকিৎসক নাদিম ইতিমধ্যে সুলতাননগর বাজারে রীতিমতো ফিজিশিয়ানের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে তার চিকিৎসা পরিষেবা। সাইন বোর্ডের নামের সঙ্গে সার্টিফিকেট নামেই যথেষ্ট ভুল রয়েছে বলে দাবি করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা। আর এইভাবে গ্রামের মধ্যে রোগীদের স্যালাইন থেকে শুরু করে শিশুদের চিকিৎসা করে যাচ্ছে সে। যদিও মহম্মদ নাদিম জানান, গ্রামের ছোটখাটো চিকিৎসা করলেও স্যালাইন পরিষেবা তিনি দিতে পারেন না। তা তিনি নিজে মুখে স্বীকার করে নিয়েছে।

যদিও গোটা বিষয়টি মালদহ জেলাসাশক কৌশিক ভট্টাচার্যকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে এই রকম ভুয়ো ডাক্তারের রমরমা বেড়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি’।তিনি আরও বলেন, গ্রামে চিকিৎসার নামে এইরকম ভুয়ো ডাক্তার থাকলে গ্রামের মানুষদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপরই জেলা শাসক গোটা বিষয়টি দেখে এবং যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যাপারে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।