ঢাকা: করোনাভাইরাসের বিরাট সংক্রমণ ও মৃত্যুতে কাঁপছে দুনিয়া। সেই সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এক শ্রেণির চিকিৎসা ব্যবসায়ীর বাজার। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ। করোনার ভুয়ো রিপোর্ট তৈরি, লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি, জাল সার্টিফিকেট দিয়ে বিপুল অর্থ রোজগার করা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে অভিযান।

আলোড়িত বাংলাদেশ। জীবন মৃত্যুর মাঝে করোনার লাল চোখ এবং ভুয়ো মেডিকেল রিপোর্টের ব্যবসার বড় বড় চাঁইরা ধরা পড়ছে। উঠে আসছে রাজনৈতিক যোগসাজস ও প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার সূত্র।

করোনাভাইরাস চিহ্নিত করার যে পরীক্ষা তা না করেই ভুয়ো রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে ধৃত ঢাকার বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ কে গ্রেফতার করেছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) গোয়েন্দা অভিযানের পর বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অন্তত ছয় হাজার মানুষকে করোনা টেস্টের ভুয়ো পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে।

শুধু রিজেন্ট হাসপাতাল নয়, তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু সংস্থার নাম। দেখা গিয়েছে এই সব সংস্থা করোনা পরীক্ষার নামে জাল রিপোর্ট তৈরি করে বিক্রি করত।

রিজেন্ট হাসপাতাল ছাড়াও জেকেজি নামে আরও এক সংস্থার নাম এসেছে।এই জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা হাজার হাজার মানুষের হাতে করোনার ভুয়ো টেস্টে জড়িত। কোটি কোটি টাকার মুনাফা হয়েছে।

জেকেজির কর্ণধার ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফ। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরী। অভিযানে আরিফ গ্রেফতার হলেও সাবরিনা পলাতক।

তদন্তে উঠে এসেছে জেকেজি কর্ণধারদের সঙ্গে রাশিয়া, ব্রিটেনের কিছু প্রভাবশালীর যোগাযোগ। তেমনই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতার সংযোগও মিলছে। এই প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ করা হয়েছে।

চিন্তার কারণ রিজেন্ট হাসপাতাল অন্তত ৬ হাজার জনের ভুয়ো করোনা রিপোর্ট দিয়েছে। আর জেকেজি ১৫ হাজারের বেশি করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট জাল করেছে। এই হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার যেমন, তেমনি সংক্রমণ ছড়াতে পারেন বলেই আশঙ্কা।

এদের মাধ্যমে রিপোর্ট পাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। পরিস্থিতি রীতিমতো চিন্তাজনক। আন্তর্জাতিক রিরোর্টে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হলেও সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা ২ হাজার পার করেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ